ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ১৯:৫৩ পিএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৫ ২০:১৭ পিএম
ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মুক্তাগাছা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। প্রবা ফটো
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে বাসচালককে লাঠিপেটার অভিযোগ এনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহনশ্রমিকেরা।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল সড়কের মুক্তাগাছা পৌর এলাকায় প্রায় সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ জন্য থানার সামনের এলাকায় রাস্তার ওপর থেকে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে পৌর বাস টার্মিনালে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও রাস্তার ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ যানজট রোধে আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউএনও আতিকুল ইসলাম পৌরসভার পুরোনো বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় যান। ওই সময় সড়কের ওপর ইসলাম পরিবহনের একটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল। ইউএনও বাসটিকে সরিয়ে নিতে বলেন। একপর্যায়ে চালকের সঙ্গে ইউএনও আতিকুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ইউএনও’র সঙ্গে থাকা আনসার সদস্যরা ইসলাম পরিবহনের চালকের ওপর লাঠিচার্জ করেন। লাঠিচার্জে মো. ভুলু নামের ইসলাম পরিবহনের এক চালক আহত হন। পরে তাকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ইসলাম পরিবহনের শ্রমিকরা রাস্তায় গাড়ি রেখে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা ইউএনও কর্তৃক চালককে মারধরের অভিযোগ এনে ইউএনওর বিচার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে রাস্তার দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
লাঠিপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাসগুলো পৌর বাস টার্মিনালে সরিয়ে নেওয়া হবে। তারপরও রাস্তার ওপর বাস দাঁড়াচ্ছিল। আজ সকালে রাস্তার ওপর বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় কারণ জানতে চেয়েছিলাম। এ কারণে চালকেরা ইস্যু সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলাম পরিবহনকে নির্দিষ্ট টার্মিনালে যেতেই হবে। চালককে মারধরের ঘটনা মিথ্যা, বানোয়াট।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো বাসস্ট্যান্ডে ইসলাম পরিবহনের গাড়ি রেখে যাত্রী উঠানামা করে আসছে। এতে শহরে যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে ইসলাম পরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহন নির্ধারিত টার্মিনালে রাখার জন্য মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যৌথবাহিনীর অভিযানও চলে। তারপরও ইসলাম পরিবহনের বাস সেখানে রেখে যাত্রী উঠানামা করছিল। আজ সকালে ইউএনও মহোদয়ের নজরে আসলে তিনি তাদেরকে গাড়ি সরিয়ে নিতে বলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসের চালককে ইউএনও মারধর করেছেন—এমন অভিযোগে শ্রমিকেরা সড়ক আটকে দিয়েছিলেন। পরে সেনাবাহিনী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।’