নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ১৫:২৭ পিএম
নেত্রকোণায় ল্যাংটা পাগলার মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রবা ফটো
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় হযরত শাহ নেওয়াজ ফকির ওরফে ল্যাংটা পাগলার মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ মার্চ) রাতে উপজেলার মাসকা বাজারসংলগ্ন স্থানে ল্যাংটা পাগলার মাজারে এ ঘটনা ঘটায় স্থানীয় তৌহিদী জনতা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তারা লাঠি মিছিল করে মাজারের তোরণ, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা ভেঙে ফেলে। ফলে ৬৪তম বার্ষিক ওরশ পণ্ড হয়ে যায়।
মাজার কমিটি রমজান মাসের কারণে শুধুমাত্র মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল।
তৌহিদী জনতা মাজারের কর্মকাণ্ডকে ‘বেদাত’ বলে অভিযোগ করে এবং কমিটির সদস্যদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার মাসকা বাজারসংলগ্ন স্থানে ল্যাংটা পাগলার মাজারে দীর্ঘদিন ধরে বার্ষিক ওরশ পালন করে আসছেন পাগলার ভক্তরা। এবার ৬৪তম বার্ষিক ওরশ পালনের প্রস্তুতি নেয় মাজার কমিটি। তবে পবিত্র রমজান মাস থাকায় আগামী বুধবার শুধুমাত্র মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে মাজার কমিটি। এ উপলক্ষে তোরণ নির্মাণসহ মাজারের আশেপাশে আলোকসজ্জা করা হয়। কিন্তু এরইমধ্যে সোমবার রাতে স্থানীয় মসজিদে তারাবি নামাজের পর তৌহিদী জনতা নামের লোকজন হঠাৎ করে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল শুরু করে।
তৌহিদী জনতার এক সদস্য বলেন, এখানে তারা মাজার করবে, গান-বাজনাসহ নাচানাচি ও মাদকসেবন করবে- এটি আমরা তৌহিদী জনতা করতে দেব না। আমরা বেশ কয়েকবার তাদের বুঝিয়েছি। এসব হারামকাজ না করার জন্য। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে গেইট, প্যান্ডেল বানানোসহ ওরশের আয়োজন করে। আমাদের দাবি একটাই, এসব বেদাত কাজকর্ম চলবে না। আর মাজার কমিটি আমাদের কথা না মেনে কেনো ওরশ আয়োজন করল, তা তৌহিদী জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে আমরা তৌহিদী জনতা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।
মাজার কমিটির সভাপতি আলী উছমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ভক্তরা ওরশ পালন করে আসছেন। এবার রমজান মাস থাকায় আমরা শুধুমাত্র মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে তৌহিদী জনতার নামে লোকজন লাঠি মিছিল করে মাজারে হামলা চালায়। এ সময় ভক্তরা খবর পেয়ে মাজারে আসতে থাকেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগামী বুধবার মাজারের ওরশ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কমিটির লোকজন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।