× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শুল্কায়ন বৃদ্ধির অজুহাতে বাড়ছে এলাচের দাম

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ১০:২৩ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরের শুরুতে গত জুলাই মাসে পাইকারিতে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। সাত মাসের ব্যবধানে এখন পণ্যটি পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। এই হিসাবে গত সাত মাসে কেজিতে বেড়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে জানুয়ারি মাসে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয় ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকায়। এখন হচ্ছে ৪ হাজার ৪৫০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। সে হিসাবে গত এক মাসেই কেজিতে এলাচের দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

আমদানিকারকরা বলছেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এলাচের শুল্কায়ন মূল্য দ্বিগুণ করে দিয়েছে। ফলে শুল্ককর বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এলাচের দাম বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি এলাচ শুল্কায়ন করা হতো সাড়ে ৭ ডলার মূল্য ধরে। এখন হচ্ছে ১৫ ডলার মূল্য ধরে। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে।

আমদানিকারকরা শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধির কারণে এলাচের দাম বাড়ছে দাবি করলেও খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধির পর আমদানি করা এলাচ এখনও এ বাজারে আসেনি। এখন খাতুনগঞ্জে যে এলাচ বিক্রি হচ্ছে তা আগে আমদানি করা। 

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে এখন নতুন এলাচ খুব একটা নেই। আগে আমদানি করা পুরনো এলাচই বিক্রি হচ্ছে সবখানে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলাচের বার্ষিক চাহিদা চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টন। এর পুরোটাই আমদানিনির্ভর। 

উদ্ভিদ সংঘনিরোধ (চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর) কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এলাচ আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৪৯০ টন। এর ৮০ শতাংশই এসেছে গুয়াতেমালা থেকে। কিন্তু খরার কারণে গত মৌসুমে সেদেশে এলাচ উৎপাদন কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে এই মসলাপণ্যের। তার প্রভাব পড়েছে এখানেও। 

আট মাস আগে প্রতি কেজি এলাচ ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। অথচ এই এলাচ শুল্কায়ন হয়ে আসছিল মাত্র সাড়ে ৭ ডলারে। শুল্কায়ন মূল্যের চেয়ে অন্তত পাঁচগুণ বেশি দামে লেনদেন হওয়ায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কাস্টমস শুল্কমূল্য দ্বিগুণ করেছে। এখন শুল্কায়ন হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫ ডলারে।

শুল্কায়ন মূল্য ১৫ ডলার নির্ধারণ করলেও এখন এলাচ খুব একটা আমদানি হচ্ছে না। কারণ গুয়াতেমালায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় তার আগে থেকেই দেশে কমতে শুরু করেছে আমদানি। 

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে এলাচ আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কম হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ টন। চলতি অর্থবছরের গত আট মাসে এলাচ আমদানি হয়েছে ১ হাজার ২৮৯ টন। সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২ হাজার ৭০২ টন। এই হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার এলাচ আমদানি কমেছে ৫২ শতাংশ। 

চলতি অর্থবছরের গত আট মাসেও ধারাবাহিকভাবে এলাচ আমদানি কমছে। অর্থবছরের শুরুতে গত জুলাই মাসে পণ্যটি আমদানি হয় ৪১৮ টন। তা থেকে অর্ধেক কমে আগস্টে আমদানি হয় ২২৭ টন, সেপ্টেম্বরে ২৩৯, অক্টোবরে ১৩০, নভেম্বরে ১০০, ডিসেম্বরে ৭০, জানুয়ারিতে ১৫ এবং সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে ৯০ টন এলাচ আমদানি হয়। 

এদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে এলাচ আমদানি কমলেও হিলি এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এলাচ আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। জানুয়ারিতে দেশে এলাচ আমদানি হয়েছে ৪২৮ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশই হয়েছে হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে আমদানি হয় ৩২২ টন। এর মধ্যে ২৫৮ টন হয়েছে হিলি দিয়ে। 

শুল্কায়ন মূল্য দ্বিগুণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এনবিআর আমদানি পণ্যের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু দুভাবে নির্ধারণ করে। এক. আন্তর্জাতিক বাজারদর বিশ্লেষণ করে। অন্যটি স্থানীয় বাজারে পণ্যটি কেমন দামে বেচাকেনা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। কেননা অনেক সময় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম কম, কিন্তু স্থানীয় বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এলাচের শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন নীতি অনুসরণ করা হয়েছে সেটি নিশ্চিত নই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বাড়ানোর কারণে এলাচের দাম বাড়ছে তা নয়। পণ্যটি যখন সাড়ে ৭ ডলার মূল্য ধরে শুল্কায়ন করা হতো তখন প্রতি কেজির দাম হওয়ার কথা ১ হাজার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। কিন্তু বাজারে তখন এলাচ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা