বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম
আটক আশরাফুল ইসলাম মুন্না। প্রবা ফটো
নাটোরের বড়াইগ্রামে মাদক কেনা-বেচায় বাধা দেওয়ার জেরে এক যুবকের চোখ তুলে নেওয়া ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ অপরাধে জড়িত একজনকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে সেনাবাহিনী।
রবিবার (২ মার্চ) ভোরে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি উত্তরপাড়া এলাকা থেকে আশরাফুল ইসলাম মুন্না নামের ওই যুবককে আটক করে সেনাবাহিনী।
এর আগে গত বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রামের রাজাপুরে অনুষ্ঠিত একুশে বই মেলার পাশে মুলাডুলি এলাকার নির্জন স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
আটক আশরাফুল ইসলাম মুন্না চোখ তুলে নেওয়া ও রগ কাটার কাজে নেতৃত্বদানকারী কিশোর গ্যাংয়ের নেতা বলে জানা গেছে।
নির্যাতনে শিকার রুবেল উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার রাতে নাটোরের বড়াইগ্রামের রাজাপুরে অনুষ্ঠিত একুশে বই মেলা থেকে রুবেল হোসেনকে কিশোর গ্যাংয়ের ৭/৮ জন তুলে নিয়ে যায়। তারা মুলাডুলি এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করার পাশাপাশি ছুরি দিয়ে ডান চোখ উপড়ে ফেলে এবং ডান পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে মেলা থেকে ফেরার সময় স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে।
রুবেলের চাচাতো ভাই সোহেল রানা বলেন, ‘২৩ ফেব্রুয়ারি মুলাডুলি এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের মুন্না, শিহাব, চ্যাপা সজিব এলাকার মাদক কারবারি সাধু মামুনের কাছে মাদক কিনতে আসে। এতে রুবেলসহ এলাকার লোকজন চোর চোর করে ধাওয়া দিলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার জেরে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মেলা থেকে সাধু মামুন ও তার সহযোগীরা রুবেলকে তুলে নিয়ে গিয়ে এই নির্যাতন চালায়। তারা আমার ভাইয়ের ডান চোখ নষ্ট করে দিয়েছে ও ডান পায়ের রগ কেটে ফেলেছে। পরে সেনাবাহিনী কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বদানকারী মুন্না নামে একজনকে আটক করেছে।’
বড়াইগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবর রহমান জানান, ‘ঘটনার পর বড়াইগ্রাম থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। সেনাবাহিনী মুন্না নামে একজনকে থানায় সোপর্দ করেছে। এ ব্যাপারে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’