সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৫ ১৫:১৪ পিএম
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার নাজিমুল ইসলামের বাড়িতে মৌমাছির অভয়াশ্রম। প্রবা ফটো
একটি—দুটি নয়, ১২টির বেশি মৌমাছির চাক রয়েছে বাড়িটিতে। মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার নাজিমুল ইসলামের বাড়ি যেন মৌমাছির অভয়াশ্রম। লাখ লাখ মৌমাছি বাড়ির কানিশ, বারান্দা, জানালার ওপরের অংশসহ প্রায় সব জায়গায় বাসা বেঁধেছে মৌমাছি। এমনকি ভবনের আশপাশের গাছেও মৌমাছির বাসা।
মৌমাছির বাড়িটির অবস্থান মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়া ইউনিয়নের জালশুকা এলাকায়। ১৫ বছর ধরে মৌমাছি এভাবেই বাসা বেঁধে আছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মৌচাকবাড়ি’ নামে পরিচিত। মৌমাছির আনাগোনা ও দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখতে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন।
বাড়িটির মালিক নাজিমুল ইসলাম (৬৫)। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাড়িতে থাকেন। এ দম্পতির দুই মেয়ের দুইজনই বিবাহিত।
শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, এক তলা ভবনের চারদিকের কার্নিশ, বারান্দার দেয়াল, জানালার ওপরের অংশে ঝুলছে মৌচাক। ভবনের পাশে গাছের ডালেও মৌমাছির বাসা। বাড়িটিকে ১২টি মৌচাক দেখা যায়।
বাড়িজুড়ে মৌমাছির বাসা বাঁধার রহস্য জানতে চাইলে নাজিমুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে বাড়ি তৈরি করেছি। এরপর থেকেই প্রতি বছর এভাবেই মৌচাক বসে আমার বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত মৌমাছি থাকে। আমার মৌমাছিদের খুব ভালো লাগে। মৌমাছি আমাদের বাড়ির কাউকে কোনো ক্ষতি করে না। আজ পর্যন্ত আমার পরিবারের কাউকে মৌমাছি কামড় দেয়নি।
নাজিমুল আরও বলেন, মৌয়াল মধু কিনতে বাড়ি এলেও তাদের কাছে মধু বিক্রি করি না। স্থানীয় ব্যক্তিরাও মৌচাকগুলো দেখাশোনা করে রাখেন। কেউ মৌমাছির চাকে ঢিল ছোড়ে না। নিজেদের প্রয়োজনে চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। সেখান থেকেই প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনকেও মধু দিই।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যখন মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়, তখন আমরা খাঁটি মধু খেতে পারি। বাড়িটা একটা দর্শনীয় স্থান হিসেবে এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে। এ বাড়ির মৌচাক দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসে।
স্থানীয় উপ—সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোদেজা আক্তার বলেন, ওই বাড়িতে এতোগুলো মৌমাছির চাক রয়েছে তা আমার জানা নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে খোঁজ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কল করা সম্ভব হয়নি।