দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:০৩ এএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৪২ এএম
নিহত ইজিবাইক চালকের পরিবার। প্রবা ফটো
দিনাজপুরে পথচারীর মারধরে ইজিবাইক চালক খালেকুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমিতি।
এ দাবিতে রবিবার (৪ ডিসেম্বর) জেলায় সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সব ধরনের ইজিবাইক চলাচল বন্ধ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে সমিতি। আন্দোলন ও দাবি বাস্তবায়নে শনিবার রাতে মাইকিংও করে সংগঠনটি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ বলেন, 'আমরা চাই এর একটা সুষ্ঠু বিচার হোক। আসামিকে গ্রেপ্তার করা হোক। যারা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মানুষের সেবায় কাজ করেন, তাদের মানুষ না ভেবে উল্টো ঠুনকো ঘটনায় হত্যা করা অমানবিক। অবিলম্বে তার গ্রেপ্তার চাই। তা নাহলে আরও কঠোর আন্দোলবে যাবো আমরা।'
গত শুক্রবার দিনাজপুর শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে ইজিবাইক চালক খালেকুল ইসলাম ও পথচারী সন্তোষ ডাল মিয়ার মধ্যে কথাকাটি হয়। একপর্যায়ে সন্তোষ ডালমিয়া মারধর চালক খালেকুলকে। এতে প্রাণ হারান খালেকুল।
নিহত খালেকুল দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মোহনপুর এলাকার মৃত ছাবের হোসেনের ছেলে। ব্যক্তিজীবনে তিনি চার সন্তানের পিতা। অন্যদিকে ওই পথচারী সন্তোষ ডাল মিয়া শহরের মালদহপট্টি এলাকায় মেঘা বস্ত্রালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন খালেকুলের স্ত্রী নুরজাহান বেগম। এর আগে রাত ৮টায় মালদহপট্টি এলাকায় ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা নিহতের স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দুই পক্ষের মধ্যে একটি মীমাংসা হয়। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম।
তিনি মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, ‘নিহতের পরিবারের পক্ষে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছিল। পরে ৪ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা পরিশোধ করে অভিযুক্ত সন্তোষ কুমার ডালমিয়া ও নিহতের স্ত্রী নুরজাহান বেগম আপসনামায় স্বাক্ষর করেছেন।’
নিহতের বড় ভাই মিরাজুল ইসলাম (গ্রাম পুলিশ) বলেন, 'শুক্রবার সন্ধ্যায় মীমাংসায় বসেছিলাম। চার লাখ টাকা নিয়ে খালেকুলের পরিবার মেনে নিয়েছে। আমরা ২০ লাখ টাকা চাইছিলাম। যেহেতু তার চার ছেলে-মেয়ে। এর মধ্যে তিনজনই নাবালক। আপসনামাও হয়েছে। পরে রাতে পুলিশ লাশ নিয়ে গেছে ময়নাতদন্তের জন্য। সে সময় একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে পুলিশ।'
এ বিষয়ে কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীরুল ইসলাম বলেন, 'উভয়পক্ষের আপস মীমাংসার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। নিহতের স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। রাতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে আসামি সন্তোষ ডাল মিয়া পলাতক রয়েছেন।' আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।