× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মনপুরায় রাতের অন্ধকারে জমি দখল করে ঘর তুলার অভিযোগ

মনপুরা (ভোলা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৬ পিএম

মনপুরায় রাতের অন্ধকারে জমি দখল করে ঘর তুলার অভিযোগ

ভোলার মনপুরা উপজেলার কলাতলী চরের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি জবরদখল করে রাতের আঁধারে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি ঘর তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মনপুরা থানা ও নৌ কন্টিনজেন্টে বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) জমির মালিক বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলাতলী চরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. ছানাউল্লা ক্রয়সূত্রে মনির বাজার সংলগ্ন দুই একর জমি চার বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন। গত বছর বাড়ি করার উদ্দেশ্যে মাটি কেটে পুকুর খনন করেন তিনি। কিন্তু গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) রাতের আঁধারে জবরদখল করে ওই জমিতে ঘর তুলেছেন একই এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া। ঘর তুলায় বাধা দিলে মিলনের সঙ্গে থাকা ১০/১৫ জন লোক অস্ত্র প্রদর্শন করে জমির মালিক ছানাউল্লাহকে মারধর ও খুন জখম করার চেষ্টা করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলার মনপুরা উপজেলার কলাতলী ইউনিয়নের মনির বাজার সংলগ্ন উত্তর পাশে অবস্থিত মো. ছানাউল্লাহর দুই একর জমি রয়েছে। ২০২০ সালে স্থানীয় নৌবাহিনীর কমান্ডার কামাল হোসেনের কাছ থেকে ছানাউল্লাহ দুই একর জমি ক্রয় করে। ক্রয়ের পর থেকে সে জমি ভোগ দখলে রয়েছে। এবং ২০২৩ সালে বাড়ি করার উদ্দেশ্যে মাটি কেটে পুকুর খনন করা হয়। তার পর থেকে ওই নতুন বাড়িটি সানাউল্লার দখলে ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অন্ধকার রাতে স্থানীয় বাসিন্দা মিলন ওই বাড়িতে ঘর  তোলেন।

এছাড়াও ঘর তুলতে গিয়ে বাড়ির পাশে সরকারি রাস্তায় থাকা বনবিভাগের গাছ কেটে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 

এ ব্যাপারে উপজেলার কলাতলী ইউিনয়ন বনবিভাগের বীট অফিসার মিলন মিয়া বলেন, গাছকাটার বিষয়ে জানি। ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি। তবে গাছ কাটার বিয়ষয়টি জবরদখল করে ঘর ওঠানো মিলন অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান বীট অফিসার।

কলাতরী চরের স্থানীয় বাসিন্দা রফিজল ইসলাম, আইজল ব্যাপারী, পপি আক্তার, সোনিয়া, আবু তাহের সেরাং, রায়হান ও রুবেল বলেন, জমিটি প্রথমে আবদুর রব হাওলাদারের ছিল। চিকিৎসার টাকার অভাবে ২০১২ সালে জমিটি তিনি নৌবাহিনীর কমান্ডার কামাল উদ্দিনের কাছে বিক্রি করেন। ২০২০ সালে কামাল জমিটি বিক্রি করেন স্থানীয় বাসিন্দা ছানাউল্লা ও সোহেলের কাছে। সেই থেকে চার বছর যাবত জমিটি সানাউল্লা ও সোহেলের  ভোগ দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালে বাড়ি করার জন্য মাটি কেটে পুকুর খনন করে সানাউল্লা। কিন্তু মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) আঁধার রাতে  মিলন ১০/১৫ জন লোক নিয়ে এসে ঘর উত্তোলন করে। এব্যাপারে সানাউল্লার পরিবার বাধা দিলে দা বটি ও লাঠিসোটা নিয়ে গায়ের দিকে তেড়ে আসে। অথচ আমরা দীর্ঘদিন ধরে জনি, জমিটি সানাউল্লা ও সোহেলের।

এ ব্যাপারে জমির মালিক সানাউল্লা বলেন, আমি জমিটি কেনার পর থেকে ভোগ দখলে আছি। আমি বাড়ি করে বসবাসের জন্য মাটি কেটে পুকুর খনন করি। কিন্তু রাতের আঁধারে আমার বাধা বাড়িতে মিলন জবরদখল করে ঘর উত্তোলন করে।  খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেলে মিলনসহ ১০/১৫ লোক দা-বটি ও লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমি নিরুপায় হয়ে মনপুরা থানায় ও নৌ কন্টিনজেন্টে অভিযোগ দিয়েছি। 

এদিকে কলাতলী চর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এসআই নজরুল ইসলামের কাছে অভিযোগ ও ঘর তুলার খবর ৯৯৯ এ ফোন করে জানানোর পরও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

এদিকে ঘর তুলার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত মিলন বলেন, আমি ২০০২ সালে বণবিভাগের কেওড়া গাছ কেটে সাফসুফ করে জমিটি ভোগদখল শুরু করি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমাকে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। তবে আমার কাছে জমির কোনও কাজপত্রও নেই। তাই এখন সুযোগ পেয়ে আমি এই জমিতে ঘর তুলেছি। এব্যাপারে মনপুরা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির বলেন, কলাতলী চরে জবরদখল করে ঘর তুলার ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা