চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:১৬ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত দেশের একমাত্র জাহাজ ভাঙা শিল্প প্রতিনিয়ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাহাজ ভাঙা শিল্প ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। তারা বলেছেন, এই শিল্প এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত। তা সত্ত্বেও এই শিল্পকে নিয়ে নেতিবাচক অভিযোগ আর মিথ্যা অপবাদ দেশে বিদেশে চলমান রয়েছে। এসব কারণে পুরানো জাহাজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এর পাশাপাশি যেসব জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের জন্য আনা হচ্ছে সব আমদানী করা জাহাজের বিচিং এবং কাটিং পারমিশন প্রাপ্তিতেও অনাকাঙ্ক্ষিত ও অহেতুক মাসের পর মাস বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে ইয়ার্ড (জাহাজ ভাঙা কারখনা) গুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকছে। শিল্পটি সংকটে থাকলে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে সরকার এবং বেকার হতে থাকবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাহাজ ভাঙা শিল্প ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আয়োজিত মানবন্ধনে অংশ নিয়ে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন।
পরিষদের নেতারা বলেন, আমরা জাহাজ ভাঙা শিল্পের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অবসান চাই। জাহাজ ভাঙা শিল্প রক্ষার জন্য সকল অন্তরায়/সমস্যাবলী নিরসনসহ সরকার তথা-বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগীতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, জাহাজ ভাঙা শিল্প বাঁচলে এ শিল্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হাজার হাজার শ্রমিক বাঁচবে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও তরান্বিত হবে।

মানববন্ধনে সীতাকুণ্ড পাইপ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি, পুরাতন জাহাজের ইলেকট্রিক সমিতি, সীতাকুণ্ড পুরাতন জাহাজের ইলেকট্রিক ক্যাবেল সমিতি, ভাটিয়ারী নব জাগরণ মেটাল, শীতলপুর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, শাপলা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, রশি দোকান মালিক সমিতি, শীতলপুর ইউনিটি সংসদ, জেনারেল স্টোর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, সীতাকুণ্ড শীপ ব্রেকিং ওয়েল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, কোল্ড ষ্টোর, কিচেন রুম সমিতি, পুরাতন জাহাজের ফানিচার সমিতি, পুরাতন জাহাজের হার্ডওয়ার মালিক সমিতির হাজারও শ্রমিক কর্মচারীসহ জাহাজ ভাঙা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও কাজের সঙ্গে জড়িত দুই হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মচারী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পরিষদের আহ্বায়ক ও পুরাতন জাহাজের ফার্ণিচার সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, পরিষদের সদস্য-সচিব ও শিপ ব্রেকিং শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাবেদ, পরিষদের সদস্য মো. নবী, মো. খালেদ মঞ্জু, শেখ সাহাব উদ্দিন, মো. নছিম, মো. ছালামত আলী, মো. মইন উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, নানা অজুহাতে এই শিল্পের টুঁটি চেপে ধরার পায়তারা চলছে বহুদিন ধরে। অথচ সরকারের আইন মেনেই এই শিল্প হংকং কনভেনশনের (জাহাজ ভাঙা শিল্পকে পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ বজায় রাখার আন্তর্জাতিক আইন) আলোকে গ্রীন শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। সাতটি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড ইতোমধ্যে গ্রীন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ লাভ করেছে। আরও ১০টি ইয়ার্ড গ্রীন সনদ পেতে প্রস্তুত। বাকিগুলোও গ্রীন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ লাভের কাজ করছে।
তারা আরও বলেন, সরকার ২০১৮ সালে হংকং কনভেনশন রেটিফাইও করেছে। এই শিল্পকে গ্রীন শিপ রিসাইক্লিং হিসেবে উন্নয়নের জন্য মালিকদের খরচ হয়ে গেছে হাজার কোটি টাকার বেশি। আর এখন যদি বলা হয় এই শিল্প পরিবেশগত মান মোটেও উন্নতি হচ্ছে না তাহলে সেটি হবে মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র। শুধু শ্রমিক নয়, এই শিল্পের বেকওয়ার্ড ও ফরোওয়ার্ড লিংকেজ নানা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছে হাজার হাজার ব্যবসায়ী, নির্ভরশীল তাদের পরিবার এবং তাদের কর্মচারীরা। সীতাকুণ্ডের প্রত্যেকটা মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবার এই শিল্পের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। অন্ধকার অধ্যায় আর হতাশার গল্প ছাপিয়ে এই খাত এখন বলছে সম্ভাবনা আর রূপান্তরের গল্প। আর এমন সময়ে পরিবেশ প্রতিবেশের দোহায় দিয়ে এই শিল্পকে বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে।