পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৯ এএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১১:২৩ এএম
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় দুই সমন্বয়ককে বহিষ্কার করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড় জেলা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, জেলা সমন্বয়কদের নিয়ে মিথ্যাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড় জেলার আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী, সদস্য মো. আকিব ও মো. মনজিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বহিষ্কৃত দুই সমন্বয়ক হলেন হযরত আলী ও ওবায়দুল্লাহ (ওবায়দুল হক)। তারা তেঁতুলিয়া উপজেলায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, পঞ্চগড় জেলা থেকে জানানো যাচ্ছে যে, তেঁতুলিয়া উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আসছিলেন হযরত আলী ও ওবায়দুল্লাহ। কিন্তু ৫ আগস্ট-পরবর্তী তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে নানান ধরনের শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সেইসঙ্গে জেলা সমন্বয়কদের নিয়ে মিথ্যাচার করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই সমর্থন করে না। তাই শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, পঞ্চগড় জেলার পক্ষ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তী সময়ে তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো কার্যক্রমে অংশ্রহণ করতে পারবেন না।
অভিযোগ তুলে বহিষ্কারের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড় জেলার আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন অফিসে গিয়ে সমন্বয়ক পরিচয়ে শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়েছে। তার প্রতিবাদ করায় আমাদের গুপ্ত সংগঠন ও শিবির বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কয়েক দিন আগে তেঁতুলিয়া যাওয়ার পথে কারণ ছাড়াই জেলার সমন্বয়ক সান ও আমাকে মারতে এসেছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে আমরা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’
ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আন্দোলনের তেঁতুলিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সব সময় তাদের প্রাধান্য দিয়েছি। কিন্তু তারা নিজেদের সুনাম ধরে না রেখে কিছুদিন আগে শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উস্কানি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একক সিদ্ধান্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দিয়ে ফেসবুকে প্রচার করে। প্রচারের কিছুক্ষণ পরই তেঁতুলিয়ায় জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যুক্ত থাকা সমন্বয়ক, পঞ্চগড় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের একক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ও তাদের কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে রাতেই তাদের কর্মসূচি স্থগিত হয়। এ সুযোগে ইউএনওর নামের সঙ্গে আমাদের যুক্ত করে অপপ্রচার চালানো শুরু করে তারা।’
এদিকে অভিযুক্ত হযরত আলী ও ওবায়দুল্লাহ বলছেন, সারা দেশের প্রেক্ষাপটে আমরা নিজেদের জায়গা থেকে সবার মতো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা কারও বাপের কথায় আন্দোলন করিনি। যে অভিযোগ তুলে আমাদের বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছে সেটার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড়ে কোনো কমিটি নেই। আর সে কারণে তিনি বহিষ্কার করতে পারেন না। আমরা যতদূর জানি সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী শিবির করেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আমি কারও পক্ষে কাজ করি না। আমি জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখানে অনেকে অনেক ভাবে চাঁদাবাজির চেষ্টা করেছে, করে আসছে। এগুলোর বিরুদ্ধে আমি সব সময় সোচ্চার থাকায় আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছে। বহিষ্কারের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বা আমি কারও সঙ্গে যুক্ত না, শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটার সত্যতা যাচাই করে দেখা আমাদের উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের চাকরি করতে এসেছি, আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনে কাজ করি। এখানে কারও শেল্টারের প্রয়োজন নেই। কারও ছত্রছায়ায় থেকে অপকর্ম করার প্রচেষ্টা করার কোনো সুযোগ এ চাকরিতে নেই। যদি কারও অভিযোগ থাকে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করুক। আমি আমার শ্রদ্ধেয় অভিভাক জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি স্যারকে বলেছি যদি কোনো অভিযোগ থাকে সেটা তদন্ত হোক। তদন্ত হওয়ার পর সত্য প্রমাণিত হলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। আর যদি তা না হয়, তাহলে এটাকে অপপ্রচার হিসেবে ধরে নেওয়া হোক।’