× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শুঁটকি উৎপাদনকারীদের দুর্দিন

এম আর ইসলাম রতন, নওগাঁ

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৫ এএম

নওগাঁর আত্রাইয়ে আহসানগঞ্জ রেললাইনের পাশে বাঁশের চাটাইয়ের তৈরি মাচায় মাছ শুকানোয় ব্যস্ত শুঁটকি উৎপাদনকারী একটি পরিবার। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

নওগাঁর আত্রাইয়ে আহসানগঞ্জ রেললাইনের পাশে বাঁশের চাটাইয়ের তৈরি মাচায় মাছ শুকানোয় ব্যস্ত শুঁটকি উৎপাদনকারী একটি পরিবার। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁর আত্রাই উপজেলা। এ উপজেলায় শতাধিক জলাশয় রয়েছে। নদীভিত্তিক এলাকা হওয়ায় সব সময় এখানে ধরা পড়ে দেশি প্রজাতির মাছ। তবে বর্তমানে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দুর্দিন যাচ্ছে এ উপজেলায় শুঁটকি উৎপাদনে জড়িতদের। 

মৎস্যজীবী ও শুঁটকি উৎপাদনে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার নদী ও জলাশয়গুলোতে দেশি মাছের উৎপাদন কমে গেছে। আর চাহিদা অনুযায়ী নদীতে মাছ না পাওয়ায় এখন বাজারে মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী। নদী ও বিভিন্ন জলাশয়ে উৎপাদিত পুঁটি, টাকি, শোল, চান্দা ও চোপড়ার মতো দেশি ছোট মাছ এখন আগের মতো আর পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এখানকার দেশি মাছের শুঁটকির কদর রয়েছে সারা দেশে। এই মাছ দিয়েই উৎপাদন হয় শুঁটকি। এসব শুঁটকি দেশের উত্তরের জেলা সৈয়দপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, জামালপুর ও ঢাকায় সরবরাহ হয়ে থাকে। শুধু দেশেই নয়, ভারতের অঙ্গরাজ্য ত্রিপুরা রয়েছে শুঁটকির কদর। এই মাছগুলো প্রথমে সৈয়দপুর যায়। এরপর সেখান থেকে ট্রেনযোগে ভারতে রপ্তানি করা হয়। তারা জানান, প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে দেশি মাছ পুঁটি, খলিশা ও টাকি। ফলে দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে। এর সঙ্গে জড়িতরাও কষ্টের মধ্যে পড়েছে। আত্রাই উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া শুঁটকি পল্লীতে শুঁটকি বিক্রি করে সারা বছর চলে এর সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর ভরণপোষণ। তবে এ বছর মাছ সংকটে শুঁটকি উৎপাদন নিয়েও দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা। অনেক চাতাল এখনও ফাঁকা পড়ে আছে।

শুঁটকি উৎপাদনকারীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কাঁচা মাছ কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। খলিশা ৭৫-৮০ টাকা কেজি, পুঁটি ১০০-১৬৫ টাকা এবং টাকি মাছ ২০০-২২০ টাকা কেজি। তবে শৈল ও বোয়ালসহ অন্যান্য দেশি মাছ না পাওয়ায় শুঁটকি হচ্ছে না। তারা বলেন, বন্যা কম হওয়ায় দেশি মাছের প্রজনন কমেছে। তবে কৃষি বিভাগের সহায়তায় মাছের উৎপাদন বাড়ানো না হলে এই সংকট আরও বাড়বে।

ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর এক মৌসুমে ২৫ লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি করা হয়েছে। এ বছর এ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকার শুঁটকি। আগামী জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুঁটকি তৈরি হবে। এ বছর খলিশা, পুঁটি, চোপড়া ও টাকি ছাড়া অন্য মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে মাছ কম আসায় বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এতে খরচটাও বেশি পড়ছে। কাঁচা মাছ ৩ মণ পুঁটি শুকিয়ে ১ মণ হয়Ñ যা বিক্রি হবে ১০-১২ হাজার টাকা। খলিশা ৪ মণ থেকে হবে ১ মণÑ যার শুটকি বিক্রি হবে ১০ হাজার টাকা মণ।

শুঁটকি ব্যবসায়ী খালেক হোসেন বলেন, নদীতে পানি থাকলেও বিল বা অন্যান্য যেসব জলাশয় রয়েছে সেখানে পানি নাই। এতে দেশীয় মাছ কম হচ্ছে। আবার চায়না জাল (রিং জাল) দিয়ে মাছ শিকারের কারণে প্রজনন কমেছে। এতে প্রতি বছরই কমছে দেশীয় মাছ। কাঁচা মাছ কম থাকায় শুঁটকির চাতাল ফাঁকা পড়ে রয়েছে। মাছের প্রজনন বিষয়ে মৎস্য অফিসের সঠিক তদাকরির প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় ২৬ জন শুঁটকি ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আরও ৩০০ পরিবার।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর মাছের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বন্যা কম হয়েছে। এ কারণে সঠিক সময়ে প্রজনন হয়নি। তারপরও প্রায় ১৪২ টন শুঁটকি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য ছয় কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফৈরদৌস আলী বলেন, দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে  খাল-বিল এলাকায় বেশি করে মাছের অভায়শ্রম তৈরি ও নষ্ট অভায়শ্রমগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে নানা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এতে দেশি মাছের উৎপাদন আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে বলে আশা করছি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা