বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:০৬ পিএম
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শ্রমিকদল নেতার বন্ধ দোকান।
গত ৫ নভেম্বর বিএনপির বরিশালের বিভাগীয় সমাবেশে গিয়েছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি চাত্রীশিরা বাঁশতলা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আকরাম খান। এরপর আকরামের ওপর হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাাকর্মীরা। তার দোকান বন্ধ করে দিয়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। দোকান বন্ধের এক মাস হতে চলল, তবুও তালাবদ্ধই আছে আকরামের দোকান।
সমাবেশে যোগ দেওয়ায় সে সময়ে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে থাকা বিএনপি নেতাকর্মী ও সমার্থকদের ৩০টি প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতারা ২৯টি প্রতিষ্ঠানের তালা খুলে দিলেও আকরামের দোকানের তালা আজও খোলা হয়নি।
ওয়ার্কশপের মালিক ও শ্রমিকদল নেতা আকরাম খান বলেন, ‘৫ নভেম্বর বিএনপির বরিশালে গণসমাবেশে যাওয়ার অপরাধে বাগধা ইউনিয় আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের মিলে দোকানে হামলা চালিয়ে মারধর করে আমার একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। সে সঙ্গে তারা দোকানটি তালাবদ্ধ করে দেন।’
বিষয়টি নিয়ে ঘটনার পর ৯ নভেম্বর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন আকরাম। বলেন, ‘পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা রহিমের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে আমাকে ফেরত দেন। কিন্তু আমার দোকানটি খুলে দেয়া হয়নি। ওয়ার্কশপ চালিয়ে মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে ৭ জনের সংসার চালাতে হয়। আমার এবং আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের আবলম্বন দোকানটি। একমাস ধরে বন্ধ থাকায় বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসা চালাতে পারছি না। চার সন্তান লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে।’
স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতাকর্মী বলেন, আকরাম খান বিএনপির সমাবেশে গিয়ে অপরাধ করেছেন। তার আবার দোকান বন্ধের পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে দ্বিতীয় অপরাধ করেছেন। তাই ওর কোন ক্ষমা নাই। ওর দোকান বন্ধ থাকবে।
আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আকরাম নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারে কাছে অভিযোগ করায় তার উপর সবাই ক্ষিপ্ত। তাই ওর দোকান কেউ খুলতে দিতে চাইছে না। বর্তমানে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। এলাকায় গিয়ে আকরামের দোকান খোলার ব্যবস্থা করে দেব।’
আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আকরামের দোকানটি বন্ধ আছে কিনা তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’