টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:১৭ পিএম
মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর থেকে কক্সবাজার টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে নাফ নদীর মোহনা থেকে একটি কাঠবাহী ট্রলার ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউন শিফের খায়ান খালী খালে কাঠবাহী ট্রলারটি আরাকান আর্মির কাছে জিম্মি রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনা গোলারচর এলাকা থেকে তল্লাশির কথা বলে ট্রলারটি ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও ট্রলারটি এখনো ছাড়া পায়নি।
স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড টেকনাফের ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও কাঠবাহী ট্রলারটি বন্দরে এসে পৌঁছায়নি। ট্রলারটিতে ৩৫ টন কাঠ রয়েছে। এসব মালামাল ব্যবসায়ী আবদুল কাদের এর কাছে নিয়ে আসছিলেন। তবে মিয়ানমারের মংডু শহর থেকে তিন / চারদিন পর পর ছোট ছোট ট্রলারে করে কিছু কিছু মালামাল আসা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকিয়াব ও ইয়াঙ্গুন থেকে কোনো ধরনের পণ্যবাহী ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে আসেনি।
এ ব্যাপারে স্থলবন্দরের কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, ‘৩৫ টন কাঠ নিয়ে মিয়ানমার থেকে একটি ট্রলার তার কাছে আসার পথে সে দেশের আরাকান আর্মি সদস্যরা অবৈধ মালামাল রয়েছে বলে ট্রলারটিকে আটক করে। তল্লাশি করার নামে ট্রলারটি ধরে নিয়ে যায়। আরাকান আর্মির সদস্যদের হাতে জিম্মি থাকা ট্রলারটি ১৪ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো ছাড়া পায়নি। হয় তো কেউ ভুল তথ্য দিয়েছে তাদের। তবে সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। কাঠগুলো তল্লাশি শেষে ট্রলারটি ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে, গত ১৬ জানুয়ারি দুপুরে মিয়ানমারের ইয়াংগুন থেকে কক্সবাজার টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে নাফ নদীর মোহনায় আটক করেছিল পণ্যবাহী ৪টি কার্গো জাহাজ। পরে জাহাজগুলো ছেড়েও দিয়েছিল। এরপর থেকে আকিয়াব ও ইয়াঙ্গুন থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে কোনো পণ্যবাহী ট্রলার আসেনি।
স্থল বন্দরের শুল্ক ও কর্মকর্তা বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পণ্য আসা বন্ধ থাকায় দৈনিক ৪ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে প্রতি বছর মিয়ানমার থেকে ছোলা, পিঁয়াজ, রসুন, জিরা, নারকেলসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়ে আসছিল।
সরকারিভাবে উভয় দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু করা হলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কম মূল্য ভোগ্যপণ্য পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে কাঠবাহী একটি ট্রলার নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
টানা ১১ মাস মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সরকারি জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘর্ষ চলছে। গত ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউন দখল করে নেন আরাকান আর্মির সদস্যরা। এরপর আরাকান আর্মি নাফ নদী তাদের জল সীমানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।