আইনশৃঙ্খলার অবনতি
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৪০ পিএম
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:০০ পিএম
সোমবার সকাল ১০টায় রাজশাহীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথা বলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। প্রবা ফটো
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের মতো কিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমাদের ব্যর্থতা আছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহীতে আয়োজিত ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ’ বিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য তুলে ধরে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ আছে এমনটা নয়। কিছু বাস্তব সমস্যা আছে। আমরা কিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছি; বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন। তাদের দায়িত্বে সমালোচনা থাকতে পারে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ শুরু করেছি, এটা চ্যালেঞ্জ।
একটি মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাকা থাকলে ও বদ মতলব থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ করা যায়। তাদের একটা রোল থাকতে পারে। স্বভাবগত অপরাধীদের ভূমিকা আছে, আমাদের ব্যর্থতাও আছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তরণে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ব্যর্থতা আছে,এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আমাদের ব্যর্থতা থেকে উত্তরণের জন্য প্রচন্ড তাড়না ও চেষ্টা আছে। প্রতিটি ব্যর্থতার পরও আমাদের চেষ্টা আছে। বিপ্লব-উত্তর পরিস্থিতিতে পৃথিবীর কোনো দেশেই শাসন কাজ চালানো খুব সহজ বিষয় নয়। এমনকি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর আমাদের দেশে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল?
এর আগে একই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নর জবাবে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানান, ছিনতাই রোধে পুলিশের তিনটি বিশেষায়িত ইউনিট শিগগিরই মাঠে নামবে।
তিনি বলেন, ‘রাতে ছিনতাই বেড়েছে। দিনেও ছিনতাই বেড়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে শনিবার সকাল থেকে বিশেষ একটি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশ, র্যাব ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিট যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে। আজ থেকে এটি বাস্তবায়িত হবে আশা করি। দেখি, এভাবে উন্নতি হয় কিনা। না হলে আমাদের অন্য পরিকল্পনায় যেতে হবে।’
আইজিপি আরও বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট মূলত যারা সমাজবিরোধী, সন্ত্রাস করে তাদের বিরুদ্ধে। আমরা শুরু করেছিলাম বেশ কয়েকদিন আগেই। ডেভিল হান্টে কারা ধরা পড়ছে আপনারা একটু দেখেন। বড় সন্ত্রাসী, বড় সন্ত্রাসকারী, চোরাকারবারি সবাই ধরা পড়ছে। একটি গোষ্ঠী চায় না বাংলাদেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। সেটার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’
মানবাধিকার রক্ষা করে বিচারের পরিবেশ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ’ বিষয়ক এই মানবাধিকার কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ রাজশাহীর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সোমবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর পিটিআই মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।