কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৩৪ পিএম
প্রবা ফটো
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একুশ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনার ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
উপজেলা প্রশাসনের কমিটিতে উপজেলা কৃষি অফিসার জোবায়ের আহমেদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মীর হোসেন। কমিটিকে আগা তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কলেজের পক্ষ থেকে গঠিত কমিটিতে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক সারোয়ার ওসমানকে প্রধান এবং কলেজের অপর দুই শিক্ষককে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামি ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের গুনবতী ডিগ্রী কলেজ ক্যাম্পাসের এই ঘটনায় দেশব্যাপী ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
খবর পেয়ে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
দুপুরে ঘটনাস্থলে আসেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জামাল হোসেন। এ সময় তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। ইউএনও বলেন, শহীদ মিনার ভাঙার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছি। ঘটনা তদন্ত করতে
এর আগে বৃহস্পতিবার মহান একুশ ফেব্রুয়ারির রাত ১২টা ১ মিনিটে কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা কলেজ চত্বরের শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। রাত পৌনে ১টার দিকে সকলে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা শহীদ মিনারে ভাংচুর চালায়।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, কলেজের শহীদ মিনারটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি অনেকটা ঝুকিপূর্ণ ছিল। তবে এটি কেউ না ভাঙলে এভাবে নিচে পড়ে যাওয়ার কথা নয়।
কলেজের নৈশ প্রহরী শামসুল আলমের বরাত দিয়ে অধ্যক্ষ আরও বলেন, রাত প্রায় দুইটার দিকে বিকট আওয়াজ শুনতে পেয়ে শহীদ মিনার চত্বরে যান ওই নৈশ প্রহরী। সেখানে গিয়ে দেখেন শহীদ মিনারের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে দুটি স্তম্ভ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন রাতে বলেন, কলেজের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (ডিজি) করা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় এখনই ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ ঘটনার সাথে স্থানীয় ব্যক্তিরাই জড়িত থাকতে পাওে বলে ধারনা করা হচ্ছে। জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।