কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:৩৩ পিএম
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিএনপির এক পক্ষের প্রতিবাদ মিছিলে ককটেল নিক্ষেপ, গুলি ও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনার দায় অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পাঁচটার দিকে নাঙ্গলকোট বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- উপজেলার বাইয়ারা গ্রামের ছাত্রদল নেতা মো. নোমান, পৌরসভা ছাত্রদল নেতা জিয়াউর রহমান, ঢালুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আকরাম হোসেন ও মো. ফারাবি। বাকিদের নামপরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ ফেব্রুয়ারি নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা বাজার এলাকায় দলীয় বিরোধের জেরে সাবেক এমপি আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার অনুসারী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সেলিম ভূঁইয়া পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার অভিযোগে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াসহ তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় মোবাশ্বের পক্ষ। মিছিলটি বাজারের ব্যাংক চত্বরে এলে তাদের ওপর চতুর্দিক থেকে ককটেল, ইটপাটকেল, আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়।
নাঙ্গলকোট পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন জসিম বলেন, ‘আমাদের নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে আমরা নাঙ্গলকোট পুরাতন হাসপাতাল থেকে প্রতিবাদ মিছিল বের করি। মিছিল নিয়ে নাঙ্গলকোট বাজারের মাঝখানে এলে গফুর ভূঁইয়ার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর ককটেল, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি করে। এতে আমাদের অন্তত ৮-১০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আমার ছেলে ওমর সাদিকেও আহত করা হয়েছে। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন মুকুল ও যুবদল নেতা তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।’
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, তারা এর আগেও আমাদের ওপর হামলা করেছে। তখন একজন নেতা মারা যাওয়াতে আবার আমার নামেই মামলা করে। আজ মামলার প্রতিবাদে আমাদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করলে তারা সেখানেও হামলা চালায়।’
সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিয়ে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে আব্দুল গফুর ভূঁইয়া পক্ষের নেতা সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক আনোয়ার হোসেন মুকুল বলেন, ‘আজ আমাদের প্রিয় নেতা কুমিল্লা এসেছেন। আমরা আমাদের সাবেক এমপি আব্দুল গফুর ভূঁইয়াসহ নেতাকর্মীরা সেখানে ছিলাম। তারা যুবদলের কমিটি এনেছে। তাদের মধ্যে গ্রুপিং দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন আমাদের ওপর দায় দিচ্ছে।’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি, এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।