লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৪৭ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:০৩ পিএম
লালমনিরহাটে রেলওেয়ের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় দরপত্র আহ্বান বাতিল করেছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিব কায়সার। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টেন্ডারে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ঠিকাদাররা ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুললে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সেই টেন্ডার বাতিল করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের অধীনে সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য কাজসহ ১৫টি কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে তিনি ছিলেন এই টেন্ডারের আহ্বানকারী। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ছিল দরপত্র ক্রয়ের শেষ দিন। এদিন আনিছুর রহমান, মোস্তাকিন, বোরহান উদ্দিন, শাহীনসহ কয়েকজন ঠিকাদার ওই বিভাগীয় প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে জানতে পারেন প্রকৌশলী নাজিব কায়সার অবৈধ সুবিধা নিয়ে তিনি তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজগুলো দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করে এনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা প্রকৌশলীকে ডাকলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এসময় ঠিকাদার আনিছুর রহমানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের জানালে জেলা শাখার যুগ্মআহবায়ক সিয়াম ইবনে নিয়াজ রেজা জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেন্ডার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রেলওয়ের রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে আবেদন করেন।
ঠিকাদার আনিছুর রহমান বলেন, টেন্ডারে অংশ নেওয়ার জন্য আমি অফিসে যাই। কিন্তু ডিইএন (বিভাগীয় প্রকৌশলী) অফিসে ছিলেন না। সেখানকার বড়বাবু (হেড ক্লার্ক) ফিরোজের সঙ্গে কথা বললে আমাকে তিনি জানান যে, ডিইএন তার পছন্দের ঠিকাদারদের ইতিমধ্যেই কাজ ভাগ করে দিয়েছেন। পরে আমরা ডিইএনকে মোবাইল ফোনে করলে আমাদের কারো ফোন তিনি ধরেননি। এরপর বড়বাবু ফোন দিলে তার ফোনে আমাদের একজন কথা বলেন। সেসময় মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের বিষয়টি জানাই। তারা সেনা ক্যাম্পে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
আরেক ঠিকাদার শাহীন বলেন, ‘আওয়ামী আমলের মতোই পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার। রেট কোড ওপেন না করে নিজের কাছে রেখে টাকার বিনিময়ে পছন্দসই ঠিকাদরকে সেই রেট কোড জানিয়ে কাজ দিচ্ছেন।’
এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার যুগ্মআহ্বায়ক সিয়াম ইবনে নিয়াজ রেজা বলেন, ‘টেন্ডারের দুর্নীতি নিয়ে আমরা সেনা ক্যাম্পে একটি তাৎক্ষণিক অভিযোগ দিয়েছি। এছাড়া রেলের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছেও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি তারা ব্যবস্থা নেবেন।
এদিকে সরেজমিনে বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ওই দপ্তরের প্রধান অফিস সহকারী ফিরোজ হোসেন বলেন, টেন্ডারটি ইতিমধ্যে বাতিল করেছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী। একই কথা জানিয়েছেন ওই অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরাও।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় ব্যবস্থাপক লিয়াকত শরীফ খানকে তাদের মোবাইল ফোনে কল করলেও ফোন রিসিভ করেননি এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।