মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪১ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫৫ পিএম
আটকা পড়া বেতন উত্তোলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় তাফালবাড়িয়া হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকরা পলাতক রয়েছেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক মো. আলমগীর হোসেন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ইউএনও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি এবং মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিল উত্তোলন করা হয়েছে। প্রভাষক আলমগীর হোসেনের বিল বন্ধ থাকায় বিলটি অসদুপায়ে উত্তোলনের চেষ্টা করেন সহকারী মৌলভী জাকারিয়া। একপর্যায়ে বাংলা প্রভাষক মাসুম গাজীর যোগসাজশে মৌলভী জাকারিয়া ইউএনও আবদুল কাইয়ূম ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেনের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে গত রবিবার সোনালী ব্যাংক মঠবাড়িয়া শাখায় জমা দেন। এ তথ্য জানার পর ইউএনও অফিস থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিলটি পরিশোধ না করে আটকে রাখতে বলা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রতারক ওই শিক্ষক ব্যাংক থেকে পালিয়ে যান।
প্রভাষক আলমগীর হোসেন জানান, ইউএনওর স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির বিষয়টি আমার জানা নেই, এটি কমিটির লোকজন জানেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সহকারী মৌলভী জাকারিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার বিলের কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দিয়ে আসছি। জালিয়াতির এ ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি আব্দুল আল মামুন বলেন, তাফালবাড়িয়া হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনও সাহেবের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি বিষয়ে মামলা হয়েছে। ইউএনও আবদুল কাইয়ূম জানান, আমার স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংক মঠবাড়িয়া শাখায় বিলের জন্য জমা দেন অভিযুক্ত শিক্ষক। বিষয়টি নজরে আসায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে আমি থানায় মামলা করেছি।