× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যটকদের বিস্ময় খাগড়াছড়ির আলুটিলা রহস্যময় গুহা

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:৪৭ পিএম

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৩১ পিএম

খাগড়াছড়ির আলুটিলা রহস্যময় গুহা। প্রবা ফটো

খাগড়াছড়ির আলুটিলা রহস্যময় গুহা। প্রবা ফটো

রূপসী বাংলার রূপের ছটা দেশব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় বাংলার গ্রামেগঞ্জে প্রকৃতি সাজে নানান সাজে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পূর্বে সাগর আর পাহাড়ের সহাবস্থান মাতৃভূমির রূপকে দিয়েছে পরিপূর্ণতা। পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ের সৌন্দর্য তাই দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষকে টানে বারেবার।

এখানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ আলুটিলা। আর দুঃসাহসী অভিযাত্রিকদের হাতছানি দেয় আলুটিলার রহস্যময় গুহা। স্থানীয় ত্রিপুরা ও পাহাড়িরা স্থানীয় ভাষায় একে বলে ‘মাতাই হাকর’। এর বাংলা অর্থ ‘দেবতা গুহা’। এর মানে হলো- এটা সেই গুহা, যেখানে স্রষ্টাও বাস করেন।

জেলা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আলুটিলা পর্যটনে এ রহস্যময় গুহা অবস্থিত।

এ রহস্যময় গুহা সমতল থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। আলুটিলা পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রায় আড়াইশত ধাপের সিঁড়ি বেয়ে নামলেই পাওয়া যাবে সেই রহস্যময় গুহা। গুহাটি প্রায় ৩৫০ ফুট দীর্ঘ, ব্যাস ১৮ ফুট। শতবর্ষ পুরোনো এ গুহার ভেতের ঘুটঘুটে অন্ধকার। এর ভেতরে দুটি বাঁক থাকায় বাইরের ছিটেফোটা আলোও প্রবেশ করতে পারে না। গুহায় প্রবেশ করে এক-তৃতীয়াংশ এগিয়ে বামে একটি ‘ব্লাইন্ড কর্নার’ এবং দুই-তৃতীয়াংশ পেরিয়ে ডানে বাঁকা। এর পর একটু বামে ঘুরেই বাইরের আলোর দেখা পাওয়া যায়- আর এটাই গুহা থেকে বের হওয়ার মুখ। প্রথমে সিঁড়ি ভেঙে প্রায় সাড়ে ৩০০ ফুট পাহাড় থেকে নেমে গুহার প্রবেশমুখে ঢুকে আবার প্রায় সাড়ে ৩০০ ফুট দীর্ঘ গুহার ভেতর দিয়ে উপরের দিকে উঠে এলে বাইরের মুখ পাওয়া যাবে। গুহার মুখে ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে আরামদায়ক শীতল বাতাসের পরশ পাওয়া যায়, যেন প্রাকৃতিক শীতাতপ ব্যবস্থা। গুহার মাঝ বরাবর ব্যাস একটু কম হওয়ায় কখনও কখনও মাথা নিঁচু করে হাঁটতে হয়। ভেতরে মাটি-পাথরের দেয়াল বেয়ে ঝির ঝির করে প্রাকৃতিকভাবে পানি বেরিয়ে এসে নিচের দিকে গুহার বাইরে একটি জলাধারের সৃষ্টি করেছে। শীত আর গ্রীষ্ম মৌসুমে পানি প্রায় শুকিয়ে যায়। গুহার ভিতর হাঁটার সময় জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট গর্তে জমাট পানিতে পায়ের পাতা ডুবে যায়। পুরো গুহাটিই ছোট-বড় পাথরে পরিপূর্ণ, এর কোনো কোনোটি অমসৃণ ও পিচ্ছিল। তাই সাবধানে কদমে ফেলতে হয়। আর ঘুটঘুটে অমাবস্যার রাতের মতো নিকষ কালো অন্ধকারে আলো বহন করা অত্যাবশ্যক। কয়েকবছর আগে মশাল জ্বালিয়ে এ রহস্যময় গুহায় প্রবেশ করতে হতো। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় মশালের প্রয়োজনীয়তা নেই। এখন মোবাইলের টর্চলাইট দিয়েই গুহায় প্রবেশ করেন স্থানীয় ও বাহিরের পর্যটকেরা।

লোকমুখে শোনা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খাগড়াছড়িতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে এ এলাকার মানুষ পাহাড় থেকে বুনো আলু সংগ্রহ করে খেয়ে অনেক দিন পার করেছে। সেজন্য পাহাড়টি আলুটিলা নামে পরিচিত।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা