শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:০৬ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ খবর জানাজানি হলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাংশা ইউনিয়নে ওই ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিন।
ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী কিশোরী (১৪) উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের এক গ্রামের দরিদ্র কামারের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গত শুক্রবার বিকালে ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ের জঙ্গলে ইলিয়াছ (২৫) নামের এক যুবক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে কিশোরীটি তার কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশকেন্দ্রে বেড়াতে যায়। সেখানে ওই কিশোরীর সঙ্গে পূর্বপরিচিত ইলিয়াছের দেখা হয়। একপর্যায়ে ইলিয়াছ তার দুই সহযোগীর সহায়তায় কিশোরীটিকে গারো পাহাড়ের জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে কিশোরীটিকে উদ্ধার করেন এবং বাড়িতে পৌঁছে দেন।
এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার দুপুরে মেয়ের ধর্ষণের ঘটনা জানতে পারেন তার মা। এরপর বিকালে সবার অগোচরে তিনি বাড়ির অদূরে গারো পাহাড়ে যান এবং সেখানে বিষপান করেন। পরে তাকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং অচেতন অবস্থায় তাকে গারো পাহাড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই নারীর স্বামী গতকাল বলেন, বিষপান করে আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আজ (বুধবার) ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিন বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চার জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ কিশোরীকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।