মাদারীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:২৬ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:১১ পিএম
ফাটল ধরেছে সড়কে। ছবি : প্রবা
মাদারীপুর সদরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কের বহু স্থানে গর্ত হওয়াসহ কয়েকটি অংশে এক পাশ দেবে গেছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারী যাত্রী, চালক ও পথচারীদের। এ ছাড়া যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এত টাকায় সড়ক নির্মাণ করে এভাবে অল্প কয়েকদিনেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাস্তা নির্মাণের কয়েকদিন পরই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্ত হতে শুরু করে। অনেক জায়গায় উঁচুনিচু হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়ম মেনে সড়কে কাজ করা হয়নি। সড়কের আগের ঢালাই ঠিকঠাকভাবে না তুলেই নতুন করে পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব পিচ ঢালাই এখন উঠে যাচ্ছে। আঙুলকাটা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে আঙুলকাটা গ্রামের অধিকাংশ অংশ বর্তমানে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, সড়কের পাশের খালের গভীরতা বেশি হওয়ায় সড়কের এ বেহাল দশা। তবে সেসব স্থানে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর বলছে, যেখানে যেখানে সড়ক ভেঙে পড়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তা মেরামত করে দিতে বলা হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৩ কোটি ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে চরগোবিন্দপুর বাবনাতলা রোড থেকে মৃধার মোড় পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার কার্পেটিংয়ের (মেরামত) কাজটি করেছেন মো. এমদাদ হোসেন নামে একজন ঠিকাদার। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়। আগস্টের শেষ দিকে কাজ শেষ হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়।
আঙুলকাটা গ্রামের বাসিন্দা সোবাহান মাতুব্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি প্রায়ই এ সড়কটি ব্যবহার করে শহর থেকে আমার বাড়ি যাতায়াত করি। সড়কটি চলতি বছরই ১৩ কোটি টাকার বেশি খরচ করে মেরামত করা হয়েছে। অথচ তিন মাসেই সেটা ভেঙে গেল! এত টাকার রাস্তা অবশ্যই খারাপ মানে তৈরি করা হয়েছে। তাই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
ইজিবাইক চালক ফজলু খান বলেন, ‘কিছুদিন আগে এখান দিয়ে যাওয়ার পথে ইজিবাইক নিয়ে খালে পড়ে যাই। দুই দিন পরপর রাস্তা ঠিক করে আর তা ভেঙে যায়। কী ঠিক করে যে এত তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়? সরকারের কাছে আমার দাবি—ভালোভাবে রাস্তাটা ঠিক করেন, তা না হলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে।’
অ্যাম্বুলেন্স চালক সাকিল বেপারী বলেন, ‘রাস্তাটির কয়েক মাস আগে কাজ শেষ হয়েছে। রোগী নিয়ে এ রাস্তা দিয়েই মাদারীপুর থেকে ঢাকা যাতায়াত করি। রাস্তাটি ঠিক করতে না করতেই ভেঙে গেছে। এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হয়। অসুস্থ রোগী আরও অসুস্থ হয়ে যায়। মূল সড়কেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখন খালের পাড়ে গাইডওয়াল দিয়ে রাস্তা দ্রুত সংস্কার করা না হলে সড়ক দিয়ে বড় গাড়ি চলাচলে সমস্যা হবে। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা দরকার।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ‘ঠিকাদার কোনো নতুন ইট-বালি ব্যবহার না করেই পুরান ইট তুলে সেটাই আবার রাস্তায় দিয়ে রোলার দিয়ে ডলে দিয়ে গেছে। কাজ শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যায় ও গর্তের সৃষ্টি হয়। আবার কোথাও উঁচুনিচু হয়ে যায়। বর্তমানে এ রাস্তা গাড়ি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’
চরগোবিন্দপুর গ্রামের আবদুল কালাম বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে কিছু বললে তো আমাদের দোষ হবে। সরকার তো রাস্তা তৈরি করতে টাকা দিচ্ছে। কিন্তু ঠিকাদাররা ফাঁকি দিচ্ছেন। তারা নিম্নমানের ইট-বালি, পিচ দিয়ে রাস্তা করেছেন। যার কারণে কয়েকদিন পর সব ভেঙে যাচ্ছে।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মো. এমদাদ হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশের খালের গভীরতা বেশি থাকার কারণে ভেঙে গেছে বা ধসে পড়েছে। আবার কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেখানে রাস্তা ভেঙে গেছে বা ধসে পড়েছে সেখানে আবার সংস্কার কাজ শুরু করেছি। আমাদের কাজে কোনো গাফিলতি নেই।’
মাদারীপুর সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাফিউজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘খালের মাটি বেশি খনন করার কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করতে বলেছি।’