কোল্ডস্টোরেজের ভাড়া বৃদ্ধি
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:২৭ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫১ পিএম
কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবার রাজশাহীর পবায় সড়কে আলু ফেলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বায়া মোড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পবা উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলার কৃষকরা অংশ নেন। এ সময় তারা রাজশাহী-নওগাঁ সড়কে আলু ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এদিকে কোল্ডস্টোরেজের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহী জেলার নয় উপজেলার কৃষকরা জানুয়ারি মাস থেকে পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসন ও কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দিয়েছেন। কৃষকদের দাবি, শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপের পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজশাহী জেলায় ৩৬টি কোল্ড স্টোরেজে আলুর ধারণক্ষমতা ৫ লাখ টন।
পবা উপজেলার কৃষক মো. শহিদুল জানান, এবার ৪০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। যার মধ্যে অধিকাংশ জমিই তিনি লিজ নিয়েছেন। চলতি বছরে কোল্ডস্টোরেজে ভাড়া বৃদ্ধি করার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। কারণ এ বছর বিদ্যুৎ বিল বাগানো হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া কমানো না হলে তারা সকল কোল্ডস্টোর বন্ধ করে দেবেন।
ইসমাইল হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, গেল বছর ৬৫ কেজির বস্তা সংরক্ষণে স্টোরেজ ভাড়া নেওয়া হয়েছে ২৫৫ টাকা। লেবার খচরসহ পড়েছে ৩০০ টাকা। এবার সেই ২৫৫ টাকার ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৬০। কোনো কারণ ছাড়াই ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হয়েছে।
কৃষক সবুর আলী বলেন, আলু উৎপাদনে এ বছর বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। গত বছরের তুলনায় যা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বস্তাপ্রতি সারের জন্য তাদেরকে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। ১ হাজার ৫০০ টাকার সেচ এবার ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া আলু তুলতে বিঘাপ্রতি লেবার খরচ দিতে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। আলুর বীজ কিনতে হয়েছে দেড়শ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া এবার জমি লিজ নেওয়ার টাকাও বেশি করা হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবার আলুর দাম নিয়ে শঙ্কিত। তার ওপর কোল্ডস্টোরেজের ভাড়া বৃদ্ধি আমাদের জন্য কৃষক ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়েছে।
জানতে চাইলে কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশে ব্যাংকের ইন্টারেস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সঙ্গে ট্যাক্স, বিদ্যুৎ বিলও পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তা ছাড়া ৪০ কেজি বস্তার জায়গায় ৭০ থেকে ৮০ কেজি আলু রাখা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহিনুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই একটি সমাধান মিলবে।