রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৫৭ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে রোকশানা আখতার। প্রবা ফটো
রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এসিল্যান্ড অফিসে হয়রানি ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম রোকশানা আখতার।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
ভুক্তভোগী রোকশানা আখতার লিখিত বক্তব্যে বলেন, নগরীর কাজলা এলাকার স্থানীয় ব্যক্তি আজিমুদ্দীনের কাছ থেকে ৩০ জুন ১৯৭৫ সালে আমার মা রিজিয়া খানম .০৭৪৪ একর জমি ক্রয় করেন। সেই সূত্রে আমরা ওই জমি খারিজ করে নিয়মিত খাজনা প্রদানের মাধ্যমে ভোগ-দখল করে আসছি। সম্প্রতি আমার বাবা মারা গেলে আমাদের কেনা জমির মূল খতিয়ানের মালিকের ওয়ারিরা ওই জমি নিজেদের দাবি করছেন। তারা হলেন রতন মৃধা (৩০), পারভীন (৫৪), পারুল (৫২) পিতা- মৃত. একরামুদ্দীন মৃধা এবং পারুলের স্বামী বাবুল (৫৫) ও পারভীনের স্বামী সোহেল, রিপা বেগম (৪০), তার পুত্র হৃদয় (৩০)। একপর্যায়ে সন্ত্রাসী রতন, বাবুল, হৃদয় বিভিন্ন সময় আমাদের প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে জোর পূর্বক আমাদের বাউন্ডারি কার জমি দখল করে নেয়। এ নিয়ে নগরীর মতিহার থানায় গত ২১ সালের ২২ আগস্ট জিডি করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার পায়নি বরং তাদের প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এর ধারাবাহিকতায় আমাদের জমির ভূয়া কাগজ ও দলিলপত্র তৈরি করে রতন মৃধা গং আরও হয়রানি শুরু করে। যার কারণে আমরা গত বছর ২৬ সেপ্টম্বর প্রতিকার চেয়ে বড়কুঠি এসিল্যান্ড বরাবর আবেদন করি। কিন্তু রতন মৃধা গংদের দ্বারা তৎকালীন এসিল্যান্ড শাহীন প্রভাবিত হয়ে বারবার আমাদের অভিযোগের রায় প্রদানের তারিখ পিছিয়ে দিতে থাকেন। উপরন্তু রতন মৃধা গং অনৈতিক শক্তির বলে বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের কর্মরত রাকিবকে নিয়ে গত বছরের ৯ নভেম্বর অবশিষ্ট জমি আবারো জোরপূর্বক জমি মাপজোকের নামে দখল করে নেয়। এক সময় উক্ত জমিতে লাগানো বড় বড় ২০টি আম গাছও জোর পূর্বক কেটে নেয়। পরবর্তীতে তৎকালীন এসিল্যান্ড শাহীন ডিসি অফিসে বদলি হয়ে গেলেও বর্তমান এসিল্যান্ড অভিজিত সরকার এবং কানুংগো নিশিত কুমার সরকার এর কাছে আমাদের অভিযোগটির বিষয় নিয়ে বারবার ধর্ণা দিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাইনি।
সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী রোকশানা আখতার আরএমপি পুলিশ কমিশনারারের কাছে তাদের নিরাপত্তা দাবি করেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দাবি জানিয়ে বড়কুঠি এসিল্যান্ডে আবেদন করা অভিযোগটির সঠিক রায় পেতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।