আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:২৩ পিএম
গত সোমবার রাতে বরগুনার আমতলীতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সেতু ভেঙে পড়ে নদীতে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা। প্রবা ফটো
বরগুনার আমতলীতে যাত্রীসহ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভারেই ভেঙে পড়েছে দুই কোটি টাকায় নির্মিত লোহার সেতু। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের অনিয়মের কারণেই নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে সেতুটি। গত সোমবার রাতে উপজেলার চন্দ্রা আউয়াল নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত চাওড়া নদীর ওপর চন্দ্রা আউয়াল নগর এলাকায় একটি আয়রন সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে আমতলী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সেতুর নির্মাণকাজ পায় তৎকালীন হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহীদুল ইসলাম মৃধা। ঠিকাদার শহীদুল প্রভাব খাটিয়ে দায়সারাভাবে সেতুটি নির্মাণে নিম্নমানের অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করায় নির্মাণের পাঁচ বছর পরই সেতুটি নড়বড়ে হয়ে যায়। গত ১৩ বছর ধরে ওই নড়বড়ে সেতু দিয়েই হলদিয়া ইউনিয়ন ও চাওড়াসহ উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করে আসছেন।
গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুজন যাত্রী নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সেতু পার হওয়ার সময় সেতুর দুই-তৃতীয়াংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা যাত্রীসহ অটোরিকশাটি নদী থেকে উদ্ধার করেন।
গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, চাওড়া ইউনিয়ন পাড়ের সেতুর দুই-তৃতীয়াংশ ভেঙে নদীতে পড়ে আছে, হলদিয়া ইউনিয়ন অংশ শুধু টিকে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাশির হাওলাদার বলেন, রাতে ডাকাডাকির শব্দে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেতু ভেঙে অটোরিকশাটি নদীতে পড়ে গেছে। পরে গাড়ি ও যাত্রীদের কিনারায় তুলে আনি।
তিনি আরও বলেন, সেতুটি নির্মাণকালেই ঠিকাদার অনিয়মের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি নড়বড়ে হয়ে যায়। কয়েকবার মেরামত করলেও কোনো কাজে আসেনি। ১৮ বছরের মাথায় প্রায় দুই কোটি টাকার সেতু এভাবে ভেঙে যাবে, মেনে নেওয়া যায় না।
দুলাল প্যাদা ও জালাল মীর বলেন, সেতুটির দুই-তৃতীয়াংশ ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। সেতু না থাকায় দুই ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। আহত যাত্রী মিরাজ সিপাহী বলেন, গাড়িটি সেতুর মাঝ বরাবর আসামাত্রই হুড়মুড় করে ভেঙে নদীতে পড়ে যাই।
ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই সেতুটি ঝুঁকিপুর্ণ থাকায় আগে থেকেই গাড়ি পারাপারে সতর্কীকরণ নোটিস সেতুর পাশে টাঙানো ছিল।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, সেতু নির্মাণকালেই ঠিকাদার অনিয়ম করায় নির্মাণের অল্পদিনের মধ্যেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। গত বছর ওই সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সতর্কীকরণ নোটিস দেওয়া হয়েছিল কিন্তু স্থানীয়রা না মেনে সেতুতে গাড়ি নিয়ে ওঠায় এমন অবস্থা হয়েছে।