চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:১৪ পিএম
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:১৯ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন নগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা চৌধুরী সিয়াম ইলাহি। ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলার নব গঠিত তিন কমিটিকে প্রহসনের কমিটি হিসেবে অভিহিত করে কমিটি থেকে শতাধিক সদস্য পদত্যাগ করেছেন।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে দাবি করে তিনটি কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন তারা। একই সঙ্গে এই কমিটি বাতিল না করা পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেলকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ আল্টিমেটাম দেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্রদের একাংশ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নতুন কমিটি গঠন করতে কেন্দ্রীয় কমিটিকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে লালখান বাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে আগামী ৬ মাসের জন্য ৭৫৪ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর থেকে ওই কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির থেকে পদত্যাগ করা যুগ্মআহ্বায়ক চৌধুরী সিয়াম ইলাহী বলেন, ‘যারা আন্দোলনে ভূমিকা রাখেনি এবং সম্মুখ সারিতে ছিলেন না তাদেরই কমিটির প্রধান পদে রাখা হয়েছে। অথচ যারা চট্টগ্রামে আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলেন তাদের মাইনাস করেই এ কমিটি দেওয়া হয়। আন্দোলনের সময় না থেকে যারা গত ৬ মাসে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে তাদেরই স্থান দিয়েছে কেন্দ্র।’
সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক জুবায়ের মানিক বলেন, ‘চট্টগ্রামে তিন কমিটিই প্রহসনের কমিটি। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশীজনদের মূল্যায়ন করা হয়নি। চাঁদাবাজ, নারী হেনস্থাকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রমাণসহ অভিযোগ কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া হয়েছিল। নেতারা তদন্ত কমিটি করবে বলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য রাসেল আহমেদ এই কমিটির বিষয়ে অবগত নয়। আরেক সমন্বয় খান তালাত রাফির ইন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেল এই প্রহসনের কমিটি গঠন করে। আমরা এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। এই কমিটি বাতিল না করা পর্যন্ত হাসনাত আবদুল্লাহ, আরিফ সোহেল ও খান তালাত মাহমুদ রাফিকে বীর চট্টলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।’
আরেক সমন্বয়ক আব্দুল বাছির নাঈম তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন। এগুলো হলো- বিকাল ৩টার মধ্যে কমিটি বাতিল করে তিন দিনের আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কমিটি গঠন করতে হবে, আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের পূর্বে অভিযুক্ত সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ও ব্যক্তির পছন্দে গঠিত এই কমিটিসমূহ গঠনের সঙ্গে জড়িত সকলের নাম-পরিচয় প্রকাশ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের পর লালখান বাজার মোড় অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় চকবাজার থেকে আগ্রাবাদ মুখী লেইন ও আগ্রাবাদ থেলে জিইসি মুখী লেইনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধই ছিল।