মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:১২ পিএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:১৩ পিএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান তারেক দুই বছরের বেশী সময় ধরে কর্মকর্তার পদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুবাধে নিজ ইচ্ছামাফিক চালাচ্ছেন অফিস। এক পরিবার কল্যাণ সহকারী শামীম আরার সঙ্গে দূর ব্যবহারসহ নানাবিধ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদন্ত টিম মাঠে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ধামাচাপা দিতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন এ কর্মকর্তা।
প্রকৃত ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য কর্মকর্তা অফিস বন্ধের দিন শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকদের (এফপিআই) নিয়ে নিজ দপ্তরে বসেছেন জরুরি বৈঠক। মাঠ কর্মীদেরকে সংঘটিত করা, শামীম আরার বিরুদ্ধে মাঠকর্মীদের ফুঁসিয়ে তোলা, অভিযোগের বাদীকে ঘায়েল করতে মিশনে নেমেছেন এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শামীম আরা।
শামীম আরা জানান, তিনি মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ১/খ ইউনিটে ১৯৯০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ৮ জানুয়ারি থেকে অসুস্থ থাকায় অফিশিয়াল নিয়মে ছুটি নিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে তার অসুস্থতা তীব্র হলে পুনরায় ছুটি বাড়ানোর জন্য প্রথমে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শককে অবহিত করেন। পরে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান তারেকের ম্যাসেঞ্জারে শামীম আরার অসুস্থতার ছবিসহ পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়ে পুনরায় ছুটি চাওয়ায় এতে তারেক ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পরিবার কল্যাণ সহকারী শামীম আরাকে অফিসে জরুরিভাবে তলব করে। পরে তিনি কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তার অফিসারের কক্ষে গেলে কর্মকর্তা নিজেই ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় তাকে গালমন্দ করে লাঞ্ছিত করে। শামীম আরা মানুষিকভাবে ভেঙে পড়ে। অফিস থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ডে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় হাসান তারেকের বিচার দাবি করে শামীম আরার স্বামী মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দুদক চেয়ারম্যান বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগ করেন।
এদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কর্মকর্তার পদটি ২০২১ সাল থেকে দীর্ঘ বছর শূন্য থাকায় কর্মকর্তার শূন্যতার প্রভাব পড়েছে বৃহত্তর এ উপজেলার ১৬ ইউনিয়নসহ ১টি পৌরসভায় পরিবার পরিকল্পনা সকল কার্যক্রমে। যে কারণে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ সময় থাকছে বন্ধ। এতে ব্যাহত হচ্ছে মায়েদের স্বাস্থ্য সেবাসহ শিশুদের সেবা। এ রকম অভিযোগ ইউনিয়ন পর্যায়ের স্থানীয় সাধারণ মানুষের।
এ সর্ম্পকে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান তারেকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শামীম আরা ও তার স্বামী মো. মিজানুর রহমান জানান, তদন্তকালীন সময়ে কর্মকর্তা স্বপদে বহাল থাকলে সঠিক তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।