× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইউটিউব দেখে কেঁচো সার উৎপাদনে মুকুলের ভাগ্যবদল

ভুবন সেন, খানসামা (দিনাজপুর)

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:১১ পিএম

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৪৮ পিএম

তরুণ উদ্যোক্তা মুকুল ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করে মাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা আয় করছেন। প্রবা ফটো

তরুণ উদ্যোক্তা মুকুল ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করে মাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা আয় করছেন। প্রবা ফটো

দুইবছর আগে ইউটিউব দেখে মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে স্বল্প পরিসরে কেঁচো দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট বা জৈবসার তৈরি শুরু করেন খানসামা উপজেলার দুবুলিয়া গ্রামের মুকুল চন্দ্র রায়। সার তৈরিতে সহায়তা করেন তার মা।

বর্তমানে প্রতিমাসে মুকুল ৫ টনের বেশি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন। এ থেকে প্রতিমাসে আয় করছেন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া কম্পোস্ট তৈরির প্রধান উপকরণ জীবিত কেঁচো বিক্রি করে আসছে অতিরিক্ত অর্থ। তা দিয়ে করেছেন দুইজনের কর্মসংস্থানও। তার সাফল্যে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছেন আরও অনেকেই।

কৃষি অফিসের সহযোগিতায় মুকুল বসতভিটায় কেঁচোর উৎপাদন শুরু করেন। সার উৎপাদন হলেও প্রথমদিকে বিক্রি না হওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েন। পরবর্তী সময়ে মাঠ দিবস ও অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি সারের প্রচারণা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সফল উদ্যোক্তা। তার তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন জেলার কৃষকরা।

গরুর গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্টার সঙ্গে আরও কয়েকটি উপকরণের মিশ্রণ পঁচিয়ে তৈরি হয় ভার্মি কম্পোস্ট বা জৈব সার। উৎপাদন প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে ৩৫- ৪০ দিন। প্রতি কেজি সার বিক্রি হয় ১৮-২০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কেঁচো সার ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন ও গুণাগুণ বৃদ্ধি পায় এবং চাষের খরচ কম হয়। উৎপাদিত ফসলের বর্ণ, স্বাদ, গন্ধ হয় আকর্ষণীয়। ভার্মি কম্পোস্ট মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মাটিতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে মাটির উর্বরতা বাড়ে। আর মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় বিধায় কেঁচো সার ব্যবহারে সেচের পানি কম লাগে। ক্ষারীয় লবণাক্ত মাটিতেও চাষাবাদ সম্ভব হয়। রোগ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছার ঝামেলা কম হয়। ফসলের বীজের অংকুরোদগম ক্ষমতা বাড়ে। অধিক কুশি, ছড়া ও দানা গঠন হয়। মাটির বুনট উন্নত হয়। রাসায়নিক সারের চাইতে খরচ অনেক কম হয় এবং পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে।

মুকুল চন্দ্র রায়ের ‘মুকুল অর্গানিক অ্যাগ্রো ফার্ম’ একটি ফার্ম আছে। তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই কিছু করার ইচ্ছে ছিল। পরে ইউটিউব দেখে কেঁচো দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করি। প্রথমে আমি ২ রিং দিয়ে শুরু করেছি । তারপর ২ রিং থেকে ৬টি হাউজ, পরবর্তীতে ১২টি হাউজে সার উৎপাদন শুরু করেছি। এতে মাসে ৫-৬ টন সার উৎপাদন হচ্ছে। প্রতি কেজি সার ১৮-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমার উৎপাদিত সার ধান, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ড্রাগন চাষে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে খুলনা, জয়পুরহাট, পাবনায় এসব জায়গায় জৈবসার পাঠিয়ে দেই। তাছাড়াও এখন কিছু স্থানীয় কৃষকরাও আমার বাড়ি থেকে সার নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি আরও বৃহৎ পরিসরে করা সম্ভব। যা থেকে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।

গোয়ালডিহি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল রায় বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট বা জৈব সার ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন ও গুণাগুণ বৃদ্ধি পায় এবং ফসলের রোগবালাই কম হয়। ফলে ফসল চাষের উৎপাদন খরচ কম হয়। এজন্য জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন আক্তার বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করার অন্যতম উপাদান হল ভার্মি কম্পোস্ট সার। এ সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বৃদ্ধিসহ বিষমুক্ত খাবার তৈরি সম্ভব। এ সার উৎপাদন ও বিক্রি করতে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের ইতিবাচক সাড়াও মিলছে। আগ্রহী কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা