আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা ইমরুল হায়দার সৈকত। ৯ বন্ধুকে নিয়ে পাহাড়তলীতে সাড়ে তিন কাঠা জায়গার ওপর যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলেন ১০ ফ্ল্যাটের একটি আবাসিক ভবন। জমি ক্রয় থেকে ভবন নির্মাণ পর্যন্ত সবকিছুই নিজ হাতে করেন তারা। পরে লটারির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ফ্ল্যাটগুলো ভাগাভাগি করে নেন।
প্রায় এক হাজার ৫০ স্কয়ার ফুটের একেকটি ফ্ল্যাটের খরচ পড়ে ৪৭ লাখ টাকা করে। এটি প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর আগের ঘটনা। ওই সময় আবাসন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও প্রায় একই দামে এমন ফ্ল্যাট পাওয়া যেত। তবে সেই পথে না গিয়ে সৈকতরা যেভাবে ভবন নির্মাণ করলেন এটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃত।
এই পদ্ধতিতে কিছু মানুষ জোট বেঁধে একটি সমিতি দাঁড় করিয়ে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমান। এরপর নিজেরা পছন্দ করে কেনেন জায়গা। সেই জায়গায় গড়ে তোলেন স্বপ্নের আবাস। ভবন নির্মাণের টাকা সমান ভাগে খরচ করা হয়, এরপর নিজেরা ভাগাভাগি করে নেন ফ্ল্যাট।
চট্টগ্রামের লেকসিটি হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হায়দার সৈকত। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, যৌথ উদ্যোগে আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এভাবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ভবন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের ভবন তৈরি করছেন।
এমন উদ্যোগের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুটি কারণে মানুষ আবাসন কোম্পানির কাছ থেকে ফ্ল্যাট কেনার বদলে যৌথ উদ্যোগে ফ্ল্যাট নির্মাণে ঝুঁকেছেন। একটি হলোÑ তারা মনে করেন, একটি ফ্ল্যাট কেনা মানে শুধু ৯৯ বছরের জন্য ওই ভবনের মালিক হওয়া। যৌথ উদ্যোগে ভূমির মালিকানাসহ পাওয়া যায়। এটা ভুল ধারণা। দ্বিতীয় বিষয়টি হলোÑ আত্মতৃপ্তি। নিজের হাতে মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নিজের ফ্ল্যাট নির্মাণ নিশ্চিত করা যায়। প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে। রেডি ফ্ল্যাট কিনলে যা ক্রেতা নিশ্চিত থাকতে পারে না।
এ বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা আবাসন ব্যবসায়ীদেরও। রিহ্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আবাসন খাতে নতুন ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে কয়েকজন মিলে জায়গা কিনে ফ্ল্যাট তৈরি করা। এটি শুধু আবাসন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা নয়, নগরীর উন্নয়নেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। নিজেরা ভবন তৈরি করতে গিয়ে তারা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মানেন না। যেমন-তেমনভাবে ভবন নির্মাণ করার কারণে ভবিষ্যৎ ঝুঁকিও তৈরি করছেন।