চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:২৬ পিএম
প্রবা গ্রাফিক্স
উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি এবং ড্যাপের কারণে দেশের আবাসন খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান হাজী দেলোয়ার হোসেন।
আবাসন ব্যবসার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, করোনা মহামারি থেকে আবাসন খাত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতিকূল অবস্থায় আছি। এর মধ্যে সরকার ড্যাপের যে সার্কুলার দিয়েছে, এর কারণে ঢাকায় আবাসন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ আগের তিন-চার তলা ভবন ভেঙে যেখানে ২০-২৫ তলা নির্মাণ করা হতো। ড্যাপের কারণে এখন এটি সম্ভব হচ্ছে না। ভবনের মালিক ৫ তলা ভেঙে যদি ২০ তলা না পারে, কেউ তো পুরাতন ভবনের জায়গায় নতুন ভবন তুলতে চাইবে না। তবে আশার কথা হচ্ছেÑ করোনার পর আবাসন খাত আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ অনেক নতুন নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে। ক্রেতাদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
নির্মাণসামগ্রী বিশেষ করে রডের দাম অনেক বেশি জানিয়ে রিহ্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, মাঝখানে একবার ৭০ হাজার টাকায় ছিল। কয়েক দিনের মধ্যে বেড়ে ৮০-৯০ হাজারে চলে গেল। হঠাৎ নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়লে আবাসন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি পক্ষ সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সরকার চাইলে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে। সরকার সিন্ডিকেট না ভাঙলে আবাসন খাতের এই স্থবিরতা কাটবে না।
হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আবাসন খাতে সরকারের সহযোগিতা খুবই অপ্রতুল। বাংলাদেশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আবাসন সমস্যার বিষয়টি আমরা সবাই অনুভব করি। কিন্তু এই খাত নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। এ খাতে সহজভাবে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সুদের হার ঠিক রেখে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঋণ দিলে এই আবাসন শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে। নির্মাণসামগ্রীর দাম যাতে না বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ পৃথিবীর আর কোনো দেশে দেখবেন না কোনো পণ্য এক লাফে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
ড্যাপের কার্যক্রম সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আবাসন খাতের কয়েকটা সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা নতুন বৈষম্যমূলক ড্যাপ। ২০২২ সাল থেকে নতুন বৈষম্যমূলক ড্যাপের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এখন বাড়িভাড়া এবং ফ্ল্যাটের দাম কী পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেটা আপনারা সাংবাদিকরা ভালো বলতে পারবেন। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আমরা দ্রুত ড্যাপ সংশোধন করে ২০০৮-এর বিধিমালা কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার যদি বৈষম্যমূলক এই ড্যাপ কার্যক্রম সংশোধন না করে, তাহলে সামনে ঢাকা শহরে ভবন নির্মাণ অনেক কমে আসবে। বহুতল ভবন নির্মাণ করতে না পারলে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো প্রকল্প নিতে উদ্বুদ্ধ হবে না।
হাজী দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ভবন নির্মাণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্তের ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার যদি সহযোগিতা করলে আমরা মধ্যবিত্তের জন্য স্বল্প মূল্যের ফ্ল্যাট তৈরি করতে পারি। সরকার কম দামে আমাদের জায়গা দিলে আমরা সেখানে ভবন নির্মাণ করে সীমিত লাভে গ্রাহকের কাছে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারব। আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যাংক লোন নেই। ডেভেলপারদের পাশাপাশি আমাদের গ্রাহকদের যদি কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক লোন দেওয়া হয়, তাহলে অনেকেই ফ্ল্যাট কিনতে পারবে। সরকারকে এই সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। এ ছাড়া সরকার প্রতি জেলায় গুচ্ছ আকারে ২৫/৩০টি, ২০/২৫ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে রিহ্যাব সদস্যদের সহযোগিতা করলে গ্রামে বসবাস করেও আধুনিক শহরের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে।