সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১১:১৯ এএম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১১:১৯ এএম
প্রবা গ্রাফিক্স
দেশে ভারী শিল্পের বিকাশ ও আবাসন সংকট নিরসনে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর যথেষ্ট ভূমিকা বহুমাত্রিক ও বিস্তৃত। বিশেষ করে এপার্টমেন্ট/ফ্ল্যাট নির্মাণের ফলে বিপুল পরিমাণ ভারী শিল্পের মালামাল ব্যবহার করে খাতটি। এতে ক্রমবর্ধমান শিল্পের বিকাশে বড় অবদান রাখলেও কয়েক বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে নাজুক এই শিল্প খাতটি। দেশের অগ্রসরমাণ নগরায়ণে আবাসন সংকটে ত্রাতার ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটকালীন সময়ে সরকারিভাবে যথাযথ নীতি সহায়তা না পাওয়ার কথা বলছেন খাত সংশ্লিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ীরা।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রেতা-বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, উচ্চ নিবন্ধন ফি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বেড়ে যাওয়া, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) সংশোধন না করাসহ বেশ কিছু কারণে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা দেশের আবাসন ব্যবসা ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে রিহ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করি না। অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখছি। সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, রড, সিমেন্ট, টাইলসসহ ২০০-এর অধিক লিংকেজ শিল্প প্রসারে কাজ করছি। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নির্মাণ খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। অর্ধকোটির অধিক শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল ২ কোটি লোকের অন্নের জোগান দিয়েছে। কিন্তু সেই পরিমাণ সুবিধা আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে টনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা ছিল। তা এখন বেড়ে আবারও ৮০ হাজার, ৯০ হাজারে ঠেকেছে। একটি পক্ষ সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সরকার চাইলে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে।
সরকার সিন্ডিকেট না ভাঙলে আবাসন খাতের এই স্থবিরতা কাটবে না মন্তব্য করে হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভারী শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থানে আবাসন খাতের ভূমিকা অনেক। এই মুহূর্তে সরকারের উচিত রিহ্যাব সদস্যদের সহজ শর্তে রড আমদানির সুযোগ দেওয়া। তাহলে রডের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। পাশাপাশি আবাসন খাতকে এগিয়ে নিতে সহজলভ্যে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা এবং সুদের হারও নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।
একাধিক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে একটি ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে অন্তত ৩০ শতাংশের মতো ফি প্রদান করতে হচ্ছে। ফি বেশি হওয়ায় ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছে। বর্তমানে একজন গ্রাহককে গেইন ট্যাক্স ৮ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি দেড় শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি এক শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ, এমআইটি ৫ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর সাড়ে ৪ শতাংশসহ মোট ২২ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন খরচ দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যদি করপোরেট ট্যাক্স যোগ করা হয় তাহলে রেজিস্ট্রেশনের খরচ ৩০ শতাংশ পড়ে যায়। ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন খরচ সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশ করার দাবি রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
ওয়াই এক্সিস আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নির্মাণসামগ্রীর উচ্চমূল্য এবং দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আবাসন খাতের নাজুক অবস্থা। এই খাত এগিয়ে নিতে সরকারকে নির্মাণসামগ্রীর দাম কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন নানা খাতের ফি কমিয়ে আনতে হবে। সরকারের উচিত ভারী শিল্পের বিকাশ ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির আবাসন খাতকে এগিয়ে নিতে হলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া।
আবাসন ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দেশে আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বিভিন্ন শিল্প খাত নিয়ে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা করলেও আবাসন খাত নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেই। সুদূরপ্রসারী পলিসি সাপোর্টের অভাবে আবাসন খাত এক ধরনের ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীভিত্তিক প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলেছে। দেশে একক শিল্প হিসেবে আবাসন খাতে বিপুল পরিমাণ অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান হলেও সরকারের সুদৃষ্টি না থাকায় অর্থনৈতিক সংকটকালীন সময়ে এই খাতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ আটকে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।