মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:২৫ পিএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৩৭ পিএম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির প্রায় ৮০ শতাংশই কেনাকাটা-সংক্রান্ত। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় দুদক কর্মকর্তাদের সরকারি ক্রয়নীতির ওপর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থার চেয়ারম্যান এ মন্তব্য করেন। ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজে ১৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে দুদকের সহকারী ও উপসহকারী পরিচালক মিলিয়ে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব বড় বড় দুর্নীতির কথা বলি, সেগুলোর উৎস হচ্ছে ক্রয়প্রক্রিয়া। আমরা যদি ক্রয় সম্পর্কে সচেতন থাকি, বাজারমূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকি এবং যে জিনিসটা ক্রয় করছি সে জিনিসটা প্রয়োজন কি না সে বিষয়ে সচেতন থাকি, তাহলে দুর্নীতি লাঘব করা অনেকাংশেই সম্ভব।’
দুর্নীতি করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতির অনেক আসামি বিদেশে। অনেক বড় অভিযুক্তরা পাশের দেশে আছেন। তাদের ফিরিয়ে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’
স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘মেডিকেল সেক্টরে কিছু দিন আগেও ঠিকাদার ঠিক করত মেডিকেলে কী কী ইকুইপমেন্ট ক্রয় করতে হবে। হাসপাতালে গিয়ে বাধ্য করত সেগুলো সই করতে। সই হয়ে ঢাকায় আসত এবং সেই অনুযায়ী মালামাল সাপ্লাই করা হতো। সেই ইকুইপমেন্ট দিয়ে অপারেশনই করা যাচ্ছে না। অধিকাংশই অকেজো। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে দুদক কর্মকর্তাদের।’
‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি সরকারি প্রোগ্রাম। দুদক-সম্পর্কিত নয়। তবে এর যদি কিছু বেনিফিট থাকে দুদক সেই বেনিফিট অবশ্যই পাবে।’
উল্লেখ্য, কর্মশালায় দুদকের বিভিন্ন পর্যায়ের ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি) আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি আমাদের সবচেয়ে বেশি নজর রাখতে হবে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সভাপতি মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রিজু।