সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৪ এএম
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আড়াই মাসের মাথায় ধসে পড়ে। সম্প্রতি শহরের বটতলা এলাকায়। প্রবা ফটো
নির্মাণের আড়াই মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর ওয়াকওয়ে (হাঁটার সড়কপথ)। নিম্নমানের উপকরণে করা হয় এর কাজ। সেই সঙ্গে মাটি কমপ্যাক্ট না করায় ওয়াকওয়ের কপালে জুটেছে দুঃখ। এটি এখন নদীগর্ভে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে এ কথা। এগারো বছর আগে তথা ২০১৪ সালে ১২০ কোটি টাকায় কিশোরগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদী সৌন্দর্যবর্ধন ও নদী খনন প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর ঘেঁষে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় ওয়াকওয়ে অর্থাৎ হাঁটার পথ।
পরের বছর ২০১৫ সালের শেষদিকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। অতঃপর মাত্র আড়াই মাসের মাথায় শহরের বটতলায় ওয়াকওয়ের কিছু অংশ ধসে যায়। এভাবে ক্রমাগত ভাঙতে ভাঙতে পাঁচ বছরে ধসে পড়ে ছয় কিলোমিটার হাঁটার পথটি।
অনিয়ম-দুর্নীতির কবলে পড়ে হাঁটার পথটি বিপন্ন অবস্থার প্রায় শেষ সীমায় দাঁড়িয়ে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও মাটি কমপ্যাক্ট না করায় ওয়াকওয়ের এই হাল। এ নিয়ে জেলার মানুষের মনে ভয়ানক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছে।
আন্দোলনের মুখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ২০১৯ সালে ঠিকাদারদের জামানতের টাকা আটকে দেয় এবং তাদের বলা হয়Ñ ভেঙে যাওয়া ওয়াকওয়ে ফের যেন বানিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঠিকাদাররা পাগলা মসজিদ সড়কে এবং বটতলার কিছু অংশ পুনর্নির্মাণ করলেও গত ছয় বছরে আরও প্রায় দুই কিলোমিটার ওয়াকওয়ে ভেঙে চূর্ণ হয়েছে।
সম্প্রতি মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ নানা যান চলায় ওয়াকওয়েটি তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। তাই ওয়াকওয়েতে কোনো যান যাতে না চলে তার ব্যবস্থা নিতে সিনিয়র আইনজীবী অশোক সরকারসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে প্রশাসনকে উদ্যোগী হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী হাসান জাকির ওয়াকওয়েতে মধ্যবয়স্ক নারী-পুরুষ হাঁটতে না পারায় তাদের ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে স্বীকার করে বলেন, ‘নরসুন্দা প্রকল্প পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তাই তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী খনন ও শোভাবর্ধনের জন্য ১২০ কোটি টাকায় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর অধীনে প্রায় ছয় কোটি টাকা নির্মাণব্যয় ধরা হয় নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার ওয়াকওয়ে (হাঁটাপথ) তৈরির জন্য।
কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের কাজ অনেক আগে শেষ হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে তেমন জানেন না। তাই সার্বিক বিষয় বলতে পারবেন না। তবে নতুন করে যদি প্রকল্প অনুমোদন পায়, তাহলে এলজিইডি মানসম্পন্ন কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, শহরবাসীর হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের জানাবেন বলে জানান।