চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:৩২ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আমদানি পণ্য নিয়ে আসা মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য খালাসের জন্য চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না লাইটার জাহাজ। এই জাহাজগুলো কোথায় আছে সেটি খুঁজে বের করে এই সংকট উত্তরণে করণীয় ঠিক করতে বৈঠক ডেকেছে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বহিনোঙর থেকে পণ্য বোঝাইয়ের পর লাইটারজাহাজগুলো কোথায় আছে সেটি মূল্যায়ন করে করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম বলেন, ‘আমদানি বেড়ে যাওয়ায় লাইটার জাহাজ সংকটে বন্দরের বহিনোঙরে অপেক্ষারত জাহাজের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বহিনোঙরে যেই পরিমাণ মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) আছে, পণ্য খালাসের জন্য সেই পরিমাণ লাইটার জাহাজ নেই। এই লাইটার জাহাজগুলো কোথায় আছে? সেটি খতিয়ে দেখার পর বহিনোঙরে যাতে লাইটার জাহাজ পর্যাপ্ত থাকে সেটি নিশ্চিত করার জন্য কর্মপন্থা নির্ধারণ করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে জাহাজ মালিক, পণ্যের এজেন্ট, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, কারখানা মালিক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ লাইটার জাহাজ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘খাদ্যপণ্য খালাস না করে দাম বাড়ানোর ফন্দি’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে আমদানি করা লাইটার জাহাজে পণ্য মজুদ করে রাখাসহ বহিনোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে লাইটার জাহাজ সংকটের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনের পর সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে এখন বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন রমজানকে সামনে রেখে দেশে ভোগ্যপণ্য আমদানি বেড়েছে। কিন্তু লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে গম, ডাল, ছোলা, ভুট্টা, চিনি, সয়াবিন বীজ নিয়ে আসা বড় জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস দ্রুত করা যাচ্ছে না। এতে আমদানি করার পরও বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ বাড়ছে না। গত এক দেড় মাস ধরে এমন অবস্থা বিরাজ করায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে দিন দিন অপেক্ষমান বড় জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে। এতে বন্দরে বিদেশি জাহাজের গড় অবস্থানও বেড়েছে। একই কারণে বেড়ে যাচ্ছে পণ্য আমদানিতে খরচ।