কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৪৯ পিএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০০:০৯ এএম
পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে নিখোঁজের ৫৪ ঘণ্টা পর ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা বিষয়ক সহ-সম্পাদক রবিউল আউয়াল অন্তরকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার নবীনগরের নার্সারী গলির নূর হোসেন বাবুলের বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে নিখোঁজ হন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার দাসের হাওলা গ্রামের সোলাইমান মৃধার ছেলে অন্তর।
উদ্ধারের পর রবিবার বিকেলে রবিউল আউয়াল অন্তরকে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয় নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিষয়টি নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ১২টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে যে কোনো সময় অন্তরকে কলাপাড়া থানাধীন রজপাড়ার স্লুইস গেটের সামনের মহাসড়ক থেকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও হেলমেট পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। পরে সেই নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেলের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন নার্সারী গলির নুর হোসেন বাবুলর বাসা থেকে অন্তরকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অন্তর জানান- ৬ ফেব্রুয়ারি পৌরসভাস্থ কলাপাড়ায় নিজস্ব দোকান বন্ধ করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বাসায় যাচ্ছিলেন। বর্ণিত ঘটনাস্থলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মাইক্রোবাসযোগে এসে তার মোটরসাইকেল ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। পরে তারা জোরপূর্বক তাকে মাইক্রোবাসে তুলে ফরিদপুরের মাওয়ায় নিয়ে ফেলে দেয়।
পরবর্তীতে তিনি বাসযোগে ঢাকায় বন্ধু আল-আমিনের কাছে চলে যান। ওইদিন রাতে আল-আমিন তাকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বন্ধু নুর হোসেন বাবুলের বাসায় ভাড়াটিয়া আসাদের কাছে রেখে আসেন।
৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে আল-আমিন আসাদকে জানান, তার বন্ধু রবিউল আউয়াল অন্তর পারিবারিক সমস্যার কারণে এই বাসায় কিছুদিন থাকবেন এবং সমস্যার সমাধান হলে চলে যাবেন। অন্তর বাসা থেকে বের হতেন না।
আসাদকে তিনি আরও জানান, অন্তরের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে তার এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে তাদের আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন সফল হলে তার বাসায় চলে যাবেন।
অন্তরকে উদ্ধারের পর তার সঙ্গে আনাছ, আসাদ এবং আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসে পুলিশ।
এদিকে অন্তরকে উদ্ধারের দাবিতে টানা তিনদিন থানার সামনে অবস্থান ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর (৩০) নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার সকালে তার বড় ভাই তুষার পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচ কর্মকর্তা ও স্থানীয় একজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- জার্জিস তালুকদার, মো. শাহআলম, মাওলা হেলাল, মো. জিকো, মো. শহিদুল ভূইয়া, মো. রেজোয়ান ও শাহিন মৃধা। তাদের মধ্যে শাহিন মৃধা ছাড়া সবাই বিসিপিসিএল-এর কর্মকর্তা।
এদিকে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের পরও ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা অন্তর কলাপাড়া থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে নাকি আদালতে সোপর্দ করা হবে তা স্পষ্ট করেনি পুলিশ।