শেখ জহুরুল হক, তালা (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:১৯ পিএম
তালা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের ওপর তৈরি শালিখা সাঁকো। প্রবা ফটো
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের ওপর তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। নাম শালিখা। প্রতিদিন সাঁকো ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে টাকা। দৈনিক মজুরি হিসেবে দুজন লোক টাকা ওঠানোর কাজ করছেন। তবে এর থেকে সরকারি কোষাগারে কোনো টাকা জমা হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন থেকেও এ ঘাটের কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয় না।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম লাল্টুর নেতৃত্বে এই টাকা ওঠানো হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, একপারে তালা উপজেলার খেশরা অপরপারে পাইকগাছা উপজেলা লাড়ুলি ইউনিয়ন। দুপারের প্রায় ৫৫টি গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন কাজে কপোতাক্ষ নদের ওপর সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। তালার অংশে খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বার গাজী ও আলম গাজী নামে দুজন ব্যক্তি দৈনিক মজুরিতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাঁকো পারাপার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিচ্ছেন টাকা।
জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা। এছাড়া মোটরসাইকেলপ্রতি ১০ টাকা, বাইসাইকেলপ্রতি ৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
আব্দুল জব্বার গাজী বলেন, ‘গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা এই সাঁকো থেকে টাকা ওঠাচ্ছি। এ কাজে আমাদের দুজনকে দৈনিক ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। স্থানীয় মসজিদে দেওয়া হয় ২০০ টাকা। সাঁকো পারাপার বাবদ দৈনিক ২৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা টাকা ওঠানো হয়। এ টাকা খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া হয়। তিনি এ টাকা দিয়ে কি করেন সেটা আমরা বলতে পারব না।’
কাটিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ সহজ পথে খুলনা ও সাতক্ষীরা যাওয়ার জন্য এই সাঁকো ব্যবহার করছে। একজন মানুষকে যেতে আসতে গুনতে হচ্ছে ১০ টাকা। মোটরসাইকেল থাকলে আরও ২০ টাকা দিতে হয়। এ টাকা নেওয়া নিয়ে অনেক সময় বাগবিতন্ডা হতে দেখা যায়।’
শ্রীমন্তকাটি গ্রামের আবুল কালাম বলেন, একটা বাঁশের সাঁকো করতে কত টাকা খরচ হয়? তার জন্য কেন সারা বছর টাকা তোলা হবে? যেখানে প্রতি মাসে ওঠানো হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো। আমাদের এলাকার মানুষের কয়রা পাইকগাছা যাওয়ার এটিই একমাত্র পথ। এতে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানার জন্য খেরশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টুকে অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইলে বার বার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ মো. রাসেল বলেন, অঘোষিতভাবে তাদেরকে সাঁকো নির্মাণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর এটা রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য তারা জনগণের কাছ থেকে সামান্য পরিমাণ টাকা নিচ্ছে বলে আমার জানা আছে। তবে কারো সাথে জোরজবরদস্তি না করতে বলা হয়েছে।