কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:০৩ পিএম
রবিবার কচুয়ার রঘুনাথপুর ও তারাপল্লা গ্রামের বুজুরী খালের ওপর লোহার সেতু উদ্বোধন করেন ওমানপ্রবাসী দুলাল মোল্লা।
চাঁদপুরের কচুয়ার কাদলা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকার বুজুরী খালের ওপর লোহার সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সেতুটির উদ্বোধন করেন ওমানপ্রবাসী দুলাল মোল্লা। তার অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। দুলাল মোল্লা কাদলা ইউনিয়নের বড়ইগাঁও গ্রামের তাজুল ইসলাম মোল্লার ছেলে।
উদ্বোধনকালে কাদলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, কাঁলচো উত্তর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন কিসলু, রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, দুলাল মোল্লার বাবা তাজুল ইসলাম মোল্লা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিল।
স্থানীয়রা জানায়, কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার রঘুনাথপুর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা হাজীগঞ্জের তারাপল্লা গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বুজুরী খাল। কচুয়া ও হাজীগঞ্জ উপজেলার যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে নির্মিত রঘুনাথপুরের উঁচু লোহার সেতুটি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সেতুটি ভেঙে পড়ে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুই মাস রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি শুরু হয়। ভেঙে যাওয়া সেতুটি নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ওমানপ্রবাসী দুলাল মোল্লার নজরে আসে। তিনি দুই উপজেলার হাজারো বাসিন্দার দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। সে অনুযায়ী কাজও শুরু করেন। ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থের লোহার সেতুটির কাজ শেষ হলে গতকাল রবিবার উদ্বোধন করা হয়। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় কচুয়া ও হাজীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।
দুলাল মোল্লার বাবা তাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘ছেলে এমন একটি মহৎ কাজ করায় অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতে যেন সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে পারে, সেজন্য সকলের নিকট দোয়া চাই।’
ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বড়ইগাঁও গ্রামের দুলাল মোল্লা দুই উপজেলার জনগণ, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করেছেন। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সেতু দিয়ে লোকজন সহজেই চলাচল করতে পারবে।’
সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন কিসলু বলেন, ‘এখনও সমাজে অনেক মহৎ, দানশীল মানুষ রয়েছেন। লোহার সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর দুলাল মোল্লাকে জানালে সে স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজের অর্থায়নে নির্মাণ করে দেন। সেতুটি নির্মাণ করে দেওয়ায় হাজীগঞ্জ উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’