গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:০০ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:২৫ পিএম
স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৪ এর বৈষম্যমূলক ধারা (৯-এর ৪ উপধারা) সংশোধনসহ যথাযথ সংস্কারের জন্য সাত দফা দাবি ও প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টস (বিএসিবি)।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিএমএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিএসিবির অন্যতম উপদেষ্টা গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর।
সংগঠনটির দাবি, ডাক্তার, বায়োকেমিস্ট ও টেকনোলজিস্টদের হাত ধরে দেশের ডায়াগনস্টিক সেবা এগিয়ে যাচ্ছে। গত স্বৈরাচার সরকারের আমলে তৈরি স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইনে বলা হয়েছে, সব ল্যাবরেটরি ও রেডিওলজি রিপোর্টে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) রেজিস্টার্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সই থাকতে হবে। আইনের এই ধারাটি বায়োকেমিস্টদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্যকে জিইয়ে রাখতে আরও সহায়ক হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, অধ্যাদেশের তথ্যানুযায়ী ল্যাবরেটরির সব বিভাগে বিশেষজ্ঞ হিসেবে শুধু চিকিৎসকরা সই করতে পারবেন আর কেউ নয়। এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক, অগ্রহণযোগ্য ও অযৌক্তিক। এটি স্বাস্থ্য খাতে অশনিসংকেত ছাড়া কিছুই নয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ল্যাবরেটরি টেস্টের মানের অবনতি হবে। এর সংশোধন করতে হবে।
ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা জানান, এ ব্যাপারে কমিশনের কাছে দাবিদাওয়া তুলে ধরা হলেও কমিশন তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এ অবস্থায় নিজেদের অধিকার আদায়ের বিষয়ে তারা শঙ্কিত। এ সময় বিশ্বে বায়োকেমিস্টদের অবস্থান তুলে ধরে তারা বলেন, সারা বিশ্বে ল্যাবরেটরি খাতে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অবদান রেখে চিকিৎসক ও বায়োকেমিস্টরা পাশাপাশি কাজ করে আসছেন।
টেস্ট রিপোর্টে সই করার অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আয়োজকরা বলেন, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও আমেরিকায় বায়োকেমিস্টরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্বীকৃত। একই সঙ্গে টেস্ট রিপোর্টে তাদের সিগনেটরি অথরিটি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টের নেতারা বক্তৃতা করেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা অনলাইনে যুক্ত হয়ে বায়োকেমিস্টদের দাবির পক্ষে একাত্মতা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অতি দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য দাবি জানান।