ভিডিও ভাইরাল
নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:১৪ পিএম
নিহত জহির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় চোর সন্দেহে এক মানসিক প্রতিবন্ধীকে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এরকম তিনটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ছবিরপাইক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম জহির উদ্দিন (৪০)। তিনি বিবিরহাটের সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লামছি গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে।
এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। গতকাল গভীর রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন, হাবিব উল্যাহ (৪৫), আবদুর রব (৬৫) ও অজিউল্লাহ (৪০)।
মোবাইলে ধারণ করা তিনটি ভিডিওর মধ্যে একটিতে দেখা যায়, কয়েকজন জহিরকে মাটিতে ফেলে বেধড় পেটাচ্ছে। তাদের মধ্যে একজনকে চোখ উপড়ে ফেলার কথা বলতে শোনা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সকালে জহিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। গুরুতর জখম নিয়ে তিনি কাতরাচ্ছেন আর লোকজন তা দেখলেও কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। অন্য ভিডিওটিতে তাকে সড়কে পড়ে কাতরাতে দেখা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতের দিকে একদল লোক চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন জহিরকে আটক করে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে জহিরের চোখ, মুখ, হাত, ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুঁচিয়ে জখম করা হয়। নির্যাতনের পর একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় তাকে। সকাল ৯টা পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় কাতরাতে থাকেন জহির। পরে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সকাল ১০টার দিকে মিয়ার হাট বাজারের কাছে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে জহিরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
সুন্দলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হানিফ বলেন, ‘জহির ২০২০ সাল থেকে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। তার কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে। চার সন্তানের জনক জহির খুঁটিনাটি দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কখনও বড় ধরনের কোনো চুরি করছে বলে কারও জানা নেই। এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশে জহিরের বোন ও খালার বাড়ি এবং সে প্রায়ই বোনের বাড়িতে যাতায়াত করত বলেও জানান ইউপি সদস্য।
কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘নিহত জহির উদ্দিন ২০২০ সাল থেকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়ে আসছিলেন।’
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের মা নাজিয়া খাতুন বাদী হয়ে শনিবার রাত ১টার দিকে থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার সময় মোবাইলফোনে ধারণ করা ভিডিও দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। তারমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’