বান্দরবান সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:১৪ পিএম
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:৫২ পিএম
পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৫ বছর উপলক্ষে বেলুন উড়িয়ে র্যালির শুভ উদ্বোধন করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল হক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈহ্লা। ছবি : প্রবা
ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে আজ শুক্রবার (২ ডিসম্বের)। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে বেলুন উড়িয়ে র্যালির শুভ উদ্বোধন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল হক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈহ্লা।
পরে বান্দরবানে বসবাসরত ম্রো, ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমীসহ ১১টি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব পোশাক পরিচ্ছদে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শত শত নারী পুরুষের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অরুন সারকি টাউন হলে এসে শেষ হয়।
টাউন হলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈহ্লায়ের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষী পদ দাশের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, এলাকায় কোন অশান্তি চাই না। আমরা এগিয়ে যেতে চাই। ১৯৭১ সালে পার্বত্য এলাকায় শিক্ষার হার ছিল দুই শতাংশ বর্তমানে ৭১ শতাংশ। শান্তি চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে, রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। জেলা সদর থেকে চুক্তির আগে যেখানে রুমা থেকে থানছি যেতে তিন থেকে চারদিন সময় লাগতো শান্তি চুক্তির ফলে এখন তিন ঘণ্টায় থানছি যাওয়া যায়। একমাত্র পার্বত্য চুক্তির কারণেই সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন কোনো এলাকা অন্ধকারে থাকবে না। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় ঘরে ঘরে সোলার বিদুৎতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। পার্বত্য চুক্তির সিংহভাগ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার মো. জিয়াউল হক, সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মো. শফিকুর রহমান, বান্দরবান ডিডিএলজি লুৎফুর রহমান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউছার, পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. নিহার রঞ্জন নন্দী, বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, ক্যাসা গ্রুপ, সিং ইয়ং ম্রো, সিং ইয়ং খুমী প্রমুখ।
এ ছাড়া বান্দরবান রাজার মাঠে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, গরীব দুঃস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ, বিকাল ৩টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, সন্ধ্যায় সাউথ এশিয়ান কারাতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরকে সংবর্ধনা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।