গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৪৫ পিএম
গাজীপুর মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ধীরাশ্রম ও দাক্ষিণখান গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রবা ফটো
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধর ঘটনার পর গাজীপুর মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ধীরাশ্রম ও দাক্ষিণখান গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গাজীপুরসহ সারা দেশে অপারেশন ডেভিল হান্ট ঘোষণার পর ওই এলাকায় বয়স্ক নারীরা ছাড়া অন্য নারীরাও বাড়িঘর ছেড়েছেন। ঘটনার পর থেকে ওই গ্রামের মসজিদে আযান হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনের সোনালী রঙের প্রধান ফটকটি বন্ধ রয়েছে। ফটকের সামনে কাঁচ ভাঙা টুকরা ও কয়েকটি সম্মাননা স্মারক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য লাঠিসোটা, জুতা ও জামাকাপড় পড়ে আছে। রাস্তাটি দিয়ে লোকজনের চলাফেরা নেই বললেই চলে। আশপাশের এলাকার অনেকেই ভিন্ন পথ দিয়ে চলাচল করছেন।
আশপাশের বাড়িঘরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক নেই। শুক্রবার রাতে ঘটনার পরপরই সবাই পালিয়ে গেছে। কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় কেবল বয়স্ক নারীরা বাড়িতে। পুরুষ লোকগুলো তাদের স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সবার মাঝে একটি ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আকম মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনের মসজিদটিও তালাবদ্ধ। আশপাশের পরিবেশ নিরব ও নিস্তব্ধ। ধীরাশ্রম-টঙ্গী সড়কের দুই পাশে ঘটনাস্থলের কাছে সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, রাতের বেলা ছাত্রদের নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন। কেউ এগিয়ে গিয়ে ছাত্রদের রক্ষা করতে গেলে তাদেরও নাজেহাল হতে হয়েছে। ছাত্ররা সেখানে লুটপাট ও ভাংচুর করতে যায়নি। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে গিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন একজোট হয়ে ছাত্রদের বেধড়ক পিটিয়েছে। আহত ছাত্রদের হাসপাতালে নিতে গেলেও তারা বাধা দেয়। আর অভিযানের কথা শুনে বাড়ি ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেছে।
শুধু ধীরশ্রম নয় গাজীপুরের অনন্য অঞ্চলেও ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখা গেলেও শনিবার সবাই আত্মগোপনে চলে গেছে।
মাহমুদ নামে একজন বলেন, শান্ত গাজীপুরকে অশান্ত করে তুলছে বিদেশের মাটিতে বসে। যারা সাধারণ আওয়ামিলীগ করতেন এসব হামলা ও ঘোষণার পর তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত করছে।
পাশের বাসার এক মহিলা ভাড়াটিয়া বলেন, এলাকায় কোনো মানুষ নেই। বিশেষ করে পুরুষ মানুষ তো আরও নেই। মসজিদে ওইদিনের পর থেকে আযান হয়নি।
উল্লেখ্য, গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ও হামলার ঘটনায় ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ৩৫ জন ও জেলা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ৪০ জনকে।