শাখাওয়াত হোসেন সোহান, রাজবাড়ী
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৩৭ এএম
২০২৩ সালের ৩ জুন শেষ হয় গড়াই সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ। এরপর দুই দফা সময় বাড়ানোর পরও কাজ চলছে ধীরগতিতে। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
গড়াই নদীর ওপর ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মিত হচ্ছে। তবে এটি নির্মাণে ভর করেছে ধীরগতি। সেতুর কাজ দ্রুত শেষ হলে রাজবাড়ী জেলা হয়ে সাত জেলা ঝিনাইদহ, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, মাগুরা, খুলনা ও রাজবাড়ী অঞ্চলের যোগাযোগে দেখা দেবে নতুন দিগন্ত।
রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহÑ এই তিনটি জেলার সীমান্তবর্তী পাংশা উপজেলার নাদুরিয়া, শৈলকুপা উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ ও শ্রীপুর উপজেলার জিসি সড়ক স্পর্শ করেছে গড়াই নদী। আর এই নদীর ওপরেই কয়েক বছর আগে পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে এখানকার যোগাযোগকে সুগম করে তুলবে। সেতু চালু হলে যাতায়াতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। বাঁচবে সময় ও টাকা। কিন্তু যেভাবে সেতুর কাজ এগোচ্ছে তাতে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা হতাশ। এ সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের জুনে। দু-দফা কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৭৫ ভাগ। সেতুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অবশ্য বলেছে, এ বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে।
রাজবাড়ী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (সিআইবিআরআর) আওতায় ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭০ টাকা ব্যয়ে এ সেতুর কাজ দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলমের (জেভি) এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিংকে। ২০২৩ সালের ৩ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় কাজের সময় বাড়ানো হয়।
সরেজমিনে নাদুরিয়া ঘাটে দেখা যায়, ইঞ্জিনচালিত খেয়া নৌকায় যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে। পাশেই সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। ২০-৩০ জন শ্রমিক ধীরগতিতে কাজ করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালামাল সরবরাহ না করায় কাজে গতি নেই। সেতুর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ না করায় কাজ থমকে রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, সেতুর কাজ শেষ হলে রাজবাড়ী, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, পাবনাসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ সরাসরি সুফল পাবে। এ ছাড়া এ সেতুর কল্যাণে সরাসরি তিন ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে, তার মধ্যে রয়েছেÑ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত সহজ করে তুলবে, বাণিজ্যিক নানা ধরনের উন্নয়নের হাতছানি, চারটি জেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে; এতে আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হবে। রাজবাড়ী-মাগুরায় একে অপরের বিনিয়োগ বাড়বে। এমএম বিল্ডার্সের সুপার ভাইজার কাওসার হোসেন বলেন, ‘কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল আরও আগেই। আমাদের মালিক বলেছেন আগামী ডিসেম্বরে কাজ শেষ করব।’
রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘মাগুরা, রাজবাড়ী ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্ত স্পর্শ করে রয়েছে নির্মাণাধীন গড়াই সেতু। এটি অনেক উপকারে আসবে। সংযোগ সড়কের জন্য দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এ মৌসুমেই নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’