শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:২৯ এএম
পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে নালিতাবাড়ীর নন্নী উত্তরবন্দ এলাকার নন্নী-বারোমারী দুই লেনের সড়ক। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ভেঙে যাওয়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী উত্তরবন্দ এলাকায় নন্নী-বারোমারী দুই লেনের সড়কটি চার মাসেও মেরামত হয়নি। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এই সড়কে চলাচলকারী প্রায় ৫০ হাজারের বেশি লোকজন। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় গ্রামের মধ্য দিয়ে ছোট ছোট সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করছে ছোট, মাঝারি ও ভারীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ফলে সেসব গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়কগুলোও ভেঙে যাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ৫ অক্টোবর পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় পানির তোড়ে নন্নী-বারোমারী দুই লেন সড়ক ভেঙে যায়। দুটি স্থানে বড় আকারে ভাঙনসহ সড়কের দুই পাশে প্রায় ৩৫০ মিটার ধসে গেছে। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যেই বরাদ্দ এসে গেছে। দ্রুত দুটি কালভার্ট নির্মাণসহ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নন্নী উত্তরবন্দ এলাকায় দুই লেনের সড়কের দুটি স্থানে ভেঙে গেছে। গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। সেখান দিয়ে যানবাহন চলাচলের কোনো অবস্থা নেই। তবে স্থানীয়রা লোকজন পারাপারের জন্য একটি স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে। সাঁকোটি দিয়ে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকম হেঁটে পারাপার করছে। সড়কের এই বেহালে নাকুগাঁও স্থলবন্দর, বারোমারী মিশন, বারোমারী বাজার, নন্নী উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়, সার্ক আইডিয়াল স্কুল, নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজ, নন্নী ইউনিয়ন পরিষদ, নন্নী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেতে ভোগান্তিতে পড়ছে পথচারীরা।
শহীদ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেরিন আক্তার বলে, ‘রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতে খুব সমস্যা হচ্ছে। ভাঙা দুটি জায়গায় দুবার অটোরিকশা পাল্টাতে হয়। বারবার অটোরিকশায় চড়লে ভাড়াও বেশি লাগছে। তা ছাড়া সময়মতো ভাঙা পাড়ে রিকশা না পাওয়া গেলে হেঁটে যেতে হয়। তখন সময় বেশি লাগে।’
নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা জান্নাত মুমু ও লিমা আক্তার বলেন, আমরা বারোমারী দাউদারা পাহাড়ি গ্রাম থেকে আসি। অনেক দূরের পথ, আর যেদিন ভাঙা পাড়ে গাড়ি না থাকে সেদিন আমাদের কষ্ট বেড়ে যায়।’
নন্নী উত্তরবন্দ ব্রিজপাড় বায়তুল সালাম মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা আবু সালিম বলেন, ‘এ সড়ক হয়ে আমাদের বন্দর ও পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু গেল বন্যায় সড়কের দুটি জায়গা ভেঙে গেলেও চার মাসেও ঠিক হয়নি।’
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ সড়ক দিয়ে সহজেই বন্দর থেকে পণ্য আনানেওয়া করা যেতো। কিন্তু বন্যার কারণে রাস্তাটা ভেঙে গেলে পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করতে পারছে না। তাই দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
পলশিকুড়া গ্রামের কৃষক ছামিউল আলম বলেন, আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বেশিরভাগ সময় নন্নী বাজার ও তিনানি বাজারে পাইকারি বিক্রি করি। কিন্তু পাইকাররা এখন এদিকে আসতেও পারে না, আমরাও বাজারে নিয়ে যেতে পারি না। তাই আমাদের সঠিক দামে বিক্রি করতে পারছি না।
সওজ শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটির জন্য ইতোমধ্যেই বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দ্রুত দুটি কালভার্ট নির্মাণসহ নকশা করে ভাঙা অংশ সংস্কার করা হবে।’