রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৪৪ পিএম
রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া-নাজিরগগঞ্জ রুটের নৌ চ্যানেল প্রশস্তকরণকল্পে পদ্মা নদীর ধাওয়াপাড়া পয়েন্টে ভরাট বালু (খননকৃত বর্জ্য) বিক্রির অভিযোগ মাহিন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১ টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এ জরিমানা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাহিন এন্টারপ্রাইজ খননকৃত পলি স্থানীয় ভাবে বিক্রি ও খাস জমি ভরাটের কাজে ব্যবহার করে অর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। যদিও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল মালেক শিকদার অভিযোগ মানতে নারাজ।
ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী প্রকৌশলী মো. এখলাছ উদ্দিন বলেন, নৌপথে রাজবাড়ী-পাবনার মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের অক্টোবর মাসে ধাওয়াপাড়া ফেরীঘাট এলাকায় ড্রেজিং কাজ শুরু করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষে কাজটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২ টি ড্রেজার নিয়োজিত। ঘাট এলাকায় ৩ ধাপে পলি অপসারণের পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে ২ ধাপের খনন কাজ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০ লক্ষ ঘন ফুট পলি অপসারণ করা হয়েছে। এগুলো ধাওয়াপাড়া ফেরীঘাটের অদূরে মহিন এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধানে ব্যবসায়ী ফজলু বাঙ্গাল ওরফে ফজলুল হকের তত্ত্বাবধানে থাকা কয়েক একর খাস জমিতে রাখা হচ্ছে।
ফজলুল হক বলেন, স্থানীয় ভাবে এগুলো দেখভালের জন্য মাহিন এন্টারপ্রাইজকে দায়িত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর রাজবাড়ী জেলার ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নিজ খরচে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল পরিবহণের নিমিত্তে মাহিন এন্টারপ্রাইজকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে সংরক্ষিত ডাইক ব্যাতীত অন্য কোন স্থান হতে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল (বালি/মাটি) উত্তোলন/অপসারণ না করার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
রাজবাড়ী ডেপুটি কালেক্টর (রেভিনিউ) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে শুধুমাত্র সরকারী/ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে খননকৃত বালি/মাটি বিনামুলে সরবরাহ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এগুলো বিক্রি বা নিজ জমি ভরাটের কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারিয়া হক বলেন, বিনামূল্যের বালু বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক শিকদারকে বালি মহাল ব্যবস্থাপনা আইনে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।