সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ১১:৩০ এএম
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:১৬ পিএম
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বৈধ অবৈধ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে ৬১টি ইটভাটা। সরকারি নানা নিয়মের বেড়াজাল থাকলেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে এসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এতে উজাড় হচ্ছে বনজঙ্গল, অন্যদিকে ভাটার কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
নিয়ম অনুসারে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লা পোড়ানোর কথা। তবে ইটভাটা মালিক সমিতি বলছে, কয়লা সংকটের কারণে তারা জ্বালানি কাঠ পোড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। আর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটার জন্য খ্যাত। ছোট এই উপজেলা ঘিরে গড়ে উঠেছে ৬১টি ইটভাটা। আর প্রতিবছরই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ইটভাটা। বছরের পর বছর ধরে চলছে নতুন ইটভাটা তৈরির হিড়িক। উপজেলার ৬১টি ইটভাটার ৩১টির নেই অনুমোদন। জেলায় রয়েছে মোট ১৪০টি ইটভাটা।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের কর্যালয়ের তথ্য অনুসারে সিরাজগঞ্জে ৪৬টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। বাকিগুলো চলছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক অফিসের হিসাব অনুসারে ইট পোড়ানোর লাইসেন্স অনেকের থাকলেও অনেক ইটভাটা মলিক তা বছর বছর নবায়ন করেন না।

এদিকে হঠাৎ করে কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার এসব ইটভাটায় একযোগে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে তৈরি হচ্ছে ইট। আর এতে জমির উর্বর শক্তি হারাচ্ছে। আর ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুসহ সব বয়সি মানুষ। হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।
ভাটা মালিকরা বলছেন, প্রতি রাউন্ড ইট পোড়াতে প্রায় প্রচুর পরিমাণে কয়লা লাগে। বর্তমানে টাকা থাকলেও কয়লা নেই। আর কয়লার দাম বেড়েছে তিন গুণ। যে কারণে বাধ্য হয়ে ইট পোড়াতে কাঠের ব্যবহার করা হচ্ছে।
সেবা ইটভাটার মালিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মৌসুমের এই সময়ে আমরা প্রচুর পরিমাণে ইট তৈরি করি। তাই এই সময় জ্বালানির প্রয়োজন বেশি। কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়া ও বাজারে কয়লার জোগান না পাওয়ার কারণে এবার জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী আহসান হাবীব আসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, কয়লার দাম তিন থেকে চারগুণ রেড়েছে। তা বাজারে পাওয়াও যায় না।
এলআর ব্রিকসের মালিক ফারুক হোসেন বলেন, সিজনে প্রতি রাউন্ড মানে ৭ থেকে ৮ লাখ ইট পোড়াতে প্রায় ১৩০ টন কয়লা লাগে। এক হাজার টন কয়লার দাম আগে ছিল ৯০ লাখ টাকা এখন কিনতে হচ্ছে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকায়। টাকা থাকলেও কয়লা পাওয়া যায় না।
রায়গঞ্জ উপজেলার ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, কয়লা সংকটের কারণে তারা জ্বালানি কাঠ দিয়েই ভাটা চালাচ্ছেন। তবে উপায় না থাকায় আমরা জ্বালানি কাঠ পোড়াতে বাধ্য হচ্ছি।

এদিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন মুক্ত জীবনের সভাপতি দীপক কুমার কর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে রায়গঞ্জ উপজেলায় নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে ইটভাটা চললেও নেই কোনো দপ্তরের উদ্যোগ। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই।
রায়গঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাচ্চু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা দেওয়ান শহিদুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, খুব শিগগিরই তারাও অভিযানে নামবেন। ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ালেই জরিমানাসহ ইটভাটা বন্ধের সুপারিশ করা হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি তানজিল পারভেজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ইতোমধ্যে তিনটি ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার রোধে মালিকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে শর্ত ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।