× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছয় কোটি টাকার সেতু, পার হতে হয় কাঠের সিঁড়ি বেয়ে

দুর্ভোগে ১৩ গ্রামের মানুষ

পিরোজপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:২৪ পিএম

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:১৪ পিএম

পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক। প্রবা ফটো

পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক। প্রবা ফটো

পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

নিয়মিত যাতায়াতের জন্য সেতুর দুই পাশে তৈরি করা হয়েছে কাঠের সিঁড়ি। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়েই সেতু পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। উপজেলার চাঁদকাঠি এলাকার তালতলা শাখা নদীর ওপর নির্মিত এই ব্রিজে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদকাঠি এলাকার তালতলা শাখা নদীর ওপর ২০২০ সালের ২৩ মার্চ ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নাওটানা-পাকুরিয়া সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের সময়সীমা ছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমরান মায়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ধীরগতিতে মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ করলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই পুরো টাকা তুলে নেয়। ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা সেতুটি এখন স্থানীয়দের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাওটানা-পাকুরিয়া মূল সেতুর মাঝ বরাবর রেলিংয়ের কিছু কাজ বাকি আছে। সেতুটির মূল অংশের কাজ প্রায় শেষ। তবে নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুর দুই পাশে কাঠের সিঁড়ি বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। এর আগে স্থানীয় মানুষ নদী পার হতেন নৌকা দিয়ে। পরে সেতু হওয়ায় নৌকা পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। এখন কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ব্রিজ পারাপারের একমাত্র মাধ্যম।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিকা বিশ্বাস ও নিখিল রঞ্জন বলেন, ব্রিজটি র্দীঘদিন অকেজো ছিল। একটু কাজ করে আর কাজ করতেছে না কর্তৃপক্ষ। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারতেছে না। মুরব্বিদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পারপার করে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে। আমরা প্রত্যাশা করি কর্তৃপক্ষ যেন কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করেন। আপ্রোচ রোডসহ ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম জানান, ব্রিজের কাজ সমাপ্ত না করে ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ব্রিজের এপার-ওপার সিড়ি ও বালুর বস্তা দিয়ে চলার ব্যবস্তা করি। আমি নিজে কয়েকবার এ নিয়ে অফিসে গেলে তারা বলেছে ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। অচিরেই আমরা ব্যবস্থা নিব।

অতনী বিশ্বাসসহ একাধিক স্কুল ছাত্র জানান, আমাদের সব থেকে বেশি কষ্ট হয় বৃষ্টির সময়। ওঠা-নামার সময় অনেকেই এখান থেকে পড়ে গেছেন। নৌকা পার হয়ে অনেক দূর ঘুরে আগে আসতে হত। এখন ব্রিজ পার হতেও সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এ বিষয় পিরোজপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী রনজিত দে বলেন, নাওটানা সেতুটির মূল অংশের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ) কাজ বাকি আছে। ৫ই আগস্টের পরে দেশের যে পরিস্থিতি, এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট যে ঠিকাদারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করতেছি। আমরা এখনও ঠিকাদারকে পাই নাই। খুব দ্রুতই সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়কের কাজ করার ব্যবস্থা করব।

তিনি আরও বলেন, এই ব্রিজের সংযোগের (অ্যাপ্রোচ) কারণে অত্র এলাকার লোকজনের যাতায়তে খুবই কষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন সময় অনেকে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন স্থানীয়রা। আমি আগামী দুই-একদিনের মধ্যে ব্রিজটি পরির্দশন করব। সর্বোচ্চ এক মাসের ভেতর ব্রিজটি সংযোগ সড়ক সমাপ্ত করে জনগণের এই দুর্দশা দূর করব।

জানা যায়, তালতলা শাখা নদীর পশ্চিম প্রান্তে পাকুরিয়া, শিংখালী, গোলারহাট, কদমবাড়ি, আছরা, জুগিয়া, সাচিয়া ও লড়া গ্রাম। পূর্ব প্রান্তে নাওটানা, জিলবুনিয়া, রামনগর, চাঁদকাঠি ও কলারদোনিয়া গ্রাম।

এ ছাড়া সংযোগ সড়কবিহীন সেতুর পূর্ব প্রান্তে দীর্ঘা মহিলা কলেজ, দীর্ঘা টেকনিক্যাল কলেজ, গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বৈঠাকাটা কলেজ, চাঁদকাঠী আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়, নাওটানা বিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলারদোনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলারদোনিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেবুজিলবুনিয়া দাখিল মাদরাসা এবং গাওখালী বাজার ও চাঁদকাঠি বাজার, বৈঠাকাটা বাজার, কলারদোনিয়া বাজার ও দীর্ঘা বাজার রয়েছে।

পশ্চিম প্রান্তের আটটি গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজ, হাটবাজার, উপজেলা সদর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য সিঁড়ি দিয়ে সংযোগ সড়কবিহীন সেতু পারাপার হয়। আবার সেতুর পূর্ব প্রান্তের গ্রামের মানুষ পশ্চিম প্রান্তের গ্রামগুলোতে যেতেও সিঁড়ি দিয়ে সেতুটি পারাপার হতে হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা