মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল
ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:৫০ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ভেঙে পড়েছে স্থানীয় সরকারের চারটি ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ওই চারটি ইউনিয়নে বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে ওই ইউপি চেয়ারম্যানরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন আত্মগোপনে। তাদের আত্মগোপনে থাকায় ইউপির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা।
আত্মগোপনে থাকা চার চেয়ারম্যান হলেনÑ উপজেলার ৭ নম্বর রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিজয় বুনার্জী, ৮ নম্বর কালীঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা, ২ নম্বর ভুনবীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রশিদ এবং ৬ নম্বর আশীদ্রোন ইউপি চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। বাকি তিনটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
গত মঙ্গলবার ওই চারটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়গুলোতে সরেজমিন চেয়ারম্যানদের পরিষদ কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিন জনেরই ফোন সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের পাত্রিকুল গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ছোট ভাইয়ের ছেলের জন্ম নিবন্ধন করতে তিন দিন ইউনিয়ন পরিষদে এসেছি। এখনও জন্ম নিবন্ধন সনদ হাতে পাইনি।
ওই ইউনিয়নের সচিব রবীন্দ্র চন্দ্র দেব বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব মাঝেমধ্যে আইন (আসেন) আরকি। তাইন (তিনি) অসুস্থ। মাঝেমধ্যে বিকালে আইয়া অফিস টাইমে শেষদিকে কাগজপত্রে স্বাক্ষর দেইন (দেন)।’
৬ নম্বর আশীদ্রোন ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যার ইউনিয়ন পরিষদে না এলেও জনগণের কোনো কাজকর্ম বন্ধ নেই। কেউ কোনো কাগজপত্র নিয়ে এলে চেয়ারম্যান স্যারের স্বাক্ষর এনে তাদের হাতে কাগজ পৌছে দেই।’
৭ নম্বর রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের রাজঘাট চা-বাগানের নারী শ্রমিক গীতা বুনার্জী বলেন, ‘একটা কাজে বেশ কদিন ধরে ঘুরতেছি, চেয়ারম্যান বাবুরে পাই না।’
ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নারায়ণ চন্দ্র গোস্বামী বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব আতকা-আতকা (মাঝেমধ্যে) পরিষদে আসেন। আবার বিচার-আচারে বাইরে গেলে তানরে পাওয়া যায় না।’
৮ নম্বর কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সঞ্জয় নায়েক বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব রেগুলার পরিষদে আসেন না। মানুষের নানাবিধ সনদের আবেদন আমরা সংগ্রহ করে রাখি। যেদিন চেয়ারম্যান সাহেব আসেন সেদিন আমরা স্বাক্ষর নিয়ে মানুষকে দেই।’
২ নম্বর ভুনবীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রশিদ, ৬ নম্বর আশীদ্রোন ইউপি চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন (জহর) ও ৭ নম্বর রাজঘাট ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় বুনার্জীর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘পরিষদের চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমার জানা নেই। এর আগে কেউ আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’