বাউফল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:২০ পিএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:২২ পিএম
প্রতীকী ছবি
পটুয়াখালীর বাউফলে এক বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৫) কৌশলে পরিত্যক্ত ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, কিশোরীর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানানোয় মা ও ফুফুকে মারধর করেন অভিযুক্ত ব্যক্তির বাবা ও ভাই। মারধরের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক।
ওই বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মা উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওই কিশোরীর মা জানান, তার স্বামী দিনমজুর। ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে বাড়িতে রেখে পাশের বাড়িতে যান। এ সময় একই গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে হোসেন হাওলাদার (২৮) বাড়ির পাশে ক্ষেতে ডাল বুনছিলেন। বাড়িতে না থাকার সুযোগে হোসেন কৌশলে তার মেয়েকে ডেকে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তিনি বাড়িতে এসে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে চারদিকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে ওই পরিত্যক্ত ঘর মেয়ের চিৎকার শুনে তার মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। তখন ওই ঘর থেকে হোসেন দৌড়ে পালিয়ে যান।
ধর্ষকের বিচার দাবি করে ওই কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ডেকে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় ধর্ষক হোসেন, তার বাবা সেলিম হাওলাদার ও ভাই মো. হাসান আমাদের ঘরে এসে আমার স্ত্রী ও বোনকে মারধর করে। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক আবদুর রউফ বলেন, ‘ওই কিশোরীর যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার দরকার তা এখানে ( হাসপাতালে) করা হয় না। তাই তাকে পটুয়াখালী সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরার্মশ দেওয়া হয়েছে। ওই কিশোরীর মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তর বাবা ও ভাইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে সে আত্মগোপনে রয়েছেন। অপরদিকে তার বাবা ও ভাই পুলিশ হেফাজতে থাকায় তাদেরও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।