সাতক্ষীরা
শেখ জহুরুল হক, তালা (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৪২ এএম
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কয়েকটি বিলে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা রয়েছে। কপোতাক্ষ ও ভদ্রা নদীর সঙ্গে এসব বিলের সংযোগ খাল খনন না করায় অধিকাংশ জমিতে এবার ইরি-বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বুধবার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের আলাদীপুর-পাঁচরোখী বিল থেকে তোলা। প্রবা ফটো
সাতক্ষীরার তালায় জাতপুর, আলাদীপুর ও পাঁচরোখী বিলে জলাবদ্ধতার কারণে এবার ১৭৫ হেক্টর জমিতে ইরি ও বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা যায়, উপজেলার জাতপুর, আলাদীপুর, পাঁচরোখী ও ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর বিলে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা চলছে। তালার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদ ও ডুমুরিয়ার ভদ্রা নদীর সঙ্গে এসব বিলের সংযোগ খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার জমির মালিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালগুলো অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির ফলে বিলে জমা পানি নদীতে পড়তে পারছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে এলাকার ক্ষুদ্র কৃষক ও বিলের জমির মালিকরা। তারা জানান, বিলের ফসলের ওপর নির্ভর করে চলে এ অঞ্চলের মানুষের সংসার। যদি ইরি-বোরো চাষ না করতে পারে তাহলে সারা বছর তাদের অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাতে হবে। এ ছাড়া পাঁচরোখী গ্রামের বাদশা আলী নামক এক ব্যক্তি সরকারি কালভার্টের মুখ বেঁধে দেওয়ার কারণে বিলের পানি নামার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আলাদীপুর গ্রামের কৃষক মোসলেম উদ্দীন মোড়ল বলেন, এই বিলে আমার প্রায় ১০ বিঘা জমি আছে। যে ধান হয় সেই ধানে আমার সারা বছরের খাবার হয়ে যায়। এবার যদি ধান চাষ করতে না পারি তাহলে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়ে যাবে। যদি পানি সরানোর ব্যবস্থা করা না যায় তাহলে এসব বিলের প্রায় ১ হাজার বিঘা জমিতে ধান চাষ হবে না।
জাতপুর গ্রামের হোসেন আলী খাঁ বলেন, এই বিলে আমি প্রায় দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করি। আমার পাঁচজন মানুষের সংসার। বিলে ধান চাষ করে সারা বছরের খাবার জোগাড় করি। ছোট একটি মুদির দোকান আছে। সেখান থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে ওষুধপথ্য কিনি ও বাজার করি। এবার এই জমিতে ধান চাষ করতে না পারলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
পাঁচরোখী গ্রামের জাতপুর-শুকদেবপুর সড়কের সরকারি কালভার্টের মুখ বাদশা আলী নামের এক প্রভাবশালী বেঁধে দেওয়ার কারণে এই বিলের পানি মোটেই নামছে না।
তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বিল জলাবদ্ধ। এখন ধান রোপণের মৌসুম। যে যেভাবে পারছে, নিজে বাঁচার জন্য বেঁধে নিচ্ছে। তবে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা না গেলে এসব বিলে এবার ধান চাষ করা সম্ভব হবে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, এ বছর তালা উপজেলায় ১৯ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ১৭৫ হেক্টর জমি আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সেচ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এটি ফলপ্রসূ হলে হয়তো আরও ১২০ হেক্টর জমি আবাদ করা সম্ভব হবে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, এলাকায় ধান চাষ সহজতর করতে পানি সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর ও নরনিয়া অঞ্চল দিয়ে পানি না নামার কারণে এই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।