সরকারি খাদ্যগুদাম
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:০১ পিএম
খুলনার পাইকগাছায় চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার এক ছটাক ধানও ক্রয় করতে পারেনি খাদ্যগুদাম। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়িতে বা হাটে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পারায় খাদ্যগুদামে কোনো কৃষক এ বছর ধান নিয়ে যাননি। বারবার মাইকিং করলেও সাড়া দেননি কৃষকরা।
উপজেলার দেলুটী ইউনিয়নের কৃষক আবুল হোসেন ইসলাম বলেন, ‘এবার ফুলবাড়ী বাজারে ভেজা ধান ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় আমি সরকারকে ধান দিইনি। শুকনা ধান দিতে গেলে মণে ৫ কেজি ঘাটতি হয়। আবার টাকা পেতেও ভোগান্তি হয়।’
কৃষক আব্দুর রশীদ বলেন, ‘এই বছর আমন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আধা শুকনা ধান ১ হাজার ৫৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। আর সরকার দর দিয়েছে ১ হাজার ৩২০ টাকা। সরকারকে ধান দিতে গেলে শুকিয়ে দিতে হয়, তাও আবার কর্মকর্তাদের চাহিদামতো সময়ে। গাড়ি ভাড়াও বাড়তি গুনতে হয়। যারা কার্ড করতে পারেননি, তারা ইচ্ছা করলেও ধান দিতে পারবেন না।’
উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের বাজার এখন ঊর্ধ্বগতির দিকে যাচ্ছে। ধানের দাম আরও বাড়বে বলে মনে করে অনেক কৃষক ধান বিক্রি না করে ঘরে মজুদ করছেন।’
উপজেলার খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে সরকারিভাবে ধান বিক্রয়ের আবেদন করেন কৃষকরা। এ বছর উপজেলার সকল কৃষকের জন্য ধান বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তারপরও গত দুই মাসে আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার এক ছটাক ধানও সংগ্রহ হয়নি। গত বছরেও আমন মৌসুমে এক ছটাক ধান আদায় হয়নি। উপজেলায় এ বছর ১ হাজার ৫৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম চলবে।
উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার হাটবাজারে ধানের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি থাকায় ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বাজারদর অব্যাহত থাকলে খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
উপজেলা কৃষি অফিসার একরামুল ইসলাম বলেন, ‘এবার উপজেলায় ১৭ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হলেও অতিবৃষ্টির জন্য অনেক জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছে। তারপরও হেক্টরপ্রতি গড় ৪.৫ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। শুনেছি বাজারে ধানের দাম বেশি রয়েছে, ফলে কৃষকরা গুদামে ধান দিচ্ছেন না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ধান সংগ্রহ পর্যবেক্ষণ কমিটির সভাপতি মাহেরা নাজনীন বলেন, ‘উপজেলায় এবার ১৫ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে হাটবাজারগুলোতে কৃষকরা ভালো দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন। ফলে খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়েছে।’