পেকুয়া
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৫৬ পিএম
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদরের কহলখালী খালটি খননের ফলে বন্যায় ডুববে না পেকুয়া বাজার, নতুন করে চাষাবাদ হবে অন্তত ১২০০ একর জমিতে। এক মাস ধরে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) কহলখালী খাল খননের কাজ করছে। ১০০ শ্রমিক দিয়ে ৫০ দিনে পেকুয়া বাজার থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত অন্তত দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল খননে খালে সুদিন ফিরছে দাবি এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, পেকুয়া চৌমুহনী এলাকায় ৭০-৮০ জন শ্রমিক খাল থেকে ময়লা তোলার কাজ করছেন। কোদাল দিয়ে খালের দুই পাড় কাটা হচ্ছে, খাল থেকে তোলা কাদামাটি পাড়ে ফেলা হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক খালের ওপর নির্মিত দোকান-পাটের খুঁটি কাটতে ব্যস্ত।
পেকুয়া সদরের বাসিন্দা সুমন বিশ্বাস বলেন, ‘এলাকার বেশিরভাগ জমি কহলখালী খালের পানির ওপর নির্ভরশীল। দখল আর দূষণে খালটি ভরাটের পর থেকে পানি পাওয়া যায়নি। বাজার ও স্টেশনের সব ময়লা এবং কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্য প্রকাশ্যে ফেলা হয় এ খালে। খালটি খনন আর পরিষ্কারে এ বছর অন্তত ১২০০ একর জমিতে চাষাবাদ হবে।’
গোঁয়াখালী এলাকার বাসিন্দা নূর হোসেন বলেন, ‘কহলখালী জোয়ার-ভাটার খাল। তবে শুষ্ক মৌসুমে পেকুয়া বাজার এলাকায় স্লুইসগেট আটকে দিয়ে এই খালের মিঠাপানি দিয়ে কৃষকেরা চাষ করতেন। খালের পানি ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ভরে যাওয়াসহ চাষাবাদে সাব মার্সিবল পাম্প বসিয়েছে। এসবের ফলে এখন এলাকায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘২০১৫ সালের বন্যায় উপজেলা পরিষদ, থানা, পেকুয়া বাজার, চৌমুহনী স্টেশন অন্তত চার থেকে পাঁচ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উদ্যোগ নিয়ে কহলখালী খাল খনন করেন। কিন্তু বছর তিনেক না যেতেই খালটি আবার ভরাট করে ফেলা হয়।’
খালটি দখল আর দূষণমুক্ত করতে ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন উদ্যোগ নিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। গত বছরের ১২ আগস্ট পেকুয়ার অন্তত ৫০টি সামাজিক সংগঠন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে কহলখালী খাল খননে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিক খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টারের (রিক) তদারক কর্মকর্তা হোসনে মোবারক বলেন, ‘ডব্লিউএফপির সহায়তায় ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে কহলখালী খাল খনন করা হচ্ছে।’
রিকের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘অন্তত ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে কহলখালী খালটি পুনরুদ্ধার ও দূষণমুক্ত করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।’
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) প্রোগ্রাম অফিসার প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘খালটি খনন করা গেলে অন্তত ২০ হাজার মানুষ বন্যা থেকে রক্ষা পাবে এবং ১২০০ একর জমিতে নতুন করে চাষাবাদ হবে।’
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘খালটিতে যেন আর কেউ ময়লা-আবর্জনা না ফেলে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পুনরায় কেউ দখল করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’