বেতাগী
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৪৭ পিএম
জাহাঙ্গীর আলম।
বেতাগী উপজেলায় ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ি। এমনই একজন জাহাঙ্গীর আলম। স্বর্ণকার থেকে ডাক্তার হয়েছেন। চেম্বারে বসে প্রতিদিন দেখেন অনেক রোগী। স্থানীয়রা জানায়, ১০ বছর আগে বেতাগী পৌর শহরে জাহাঙ্গীর ছিলেন স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী। তার আগে ঢাকায় স্বর্ণকারের দোকানে কাজ করেছেন। এখন তিনি চেম্বার বানিয়ে রোগী দেখছেন। সব রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন। তার ব্যবস্থাপত্র ও প্যাথলজি পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন আগে পর্যন্ত তিনি ছাপানো ব্যবস্থাপত্র ব্যবহার করে চিকিৎসা দিতেন। তখনকার সময় ব্যবস্থাপত্র লেখা ছিল ডা. জাহাঙ্গীর আলম, আরএমপি প্যারামেডিকেল এবং এমসিএইচ শিশু হাসপাতাল। পাশাপাশি জেনারেল প্রাকটিশনার, ঢাকা। কিন্ত বর্তমানে তিনি ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন সাদা কাগজে। যেখানে চিকিৎসক ও কোনো ডিগ্রি লেখা নেই। জাহাঙ্গীর প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারেন বলে দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকবার অভিযান চালিত হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ভুয়া চিকিৎসা না দিতে বলেছেন। ফলে কিছুদিন তার চেম্বার ছিল বন্ধ। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফের ভুয়া চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন তিনি। এবার নতুন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ইউএনওর কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এই ভুয়া ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী রোগীদের পক্ষ থেকে সরকারের নানা দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন, উপজেলা ইউএনও ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর যে একজন ডাক্তার এ ব্যাপারে তার বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। নেই কোনো প্রশিক্ষণ। তিনি গ্রামের গরিব, অসহায় ও অশিক্ষিত মানুষকে চিকিৎসাসেবার নামে ভুল চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। ঝুঁকিপূর্ণ অ্যান্টিবায়েটিক ওষুষধসহ অচেনা টোটকা কোম্পানির বলবর্ধক ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এখানে কিছু প্রাইভেট ক্লিনিকের সঙ্গে চুক্তি করে রোগীদের আকারণে টেস্ট দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তারা ভুয়া ও হাতুড়ে ডাক্তার জাহাঙ্গীরের কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। ভুক্তভোগী হাসানুজ্জমানসহ স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, জাহাঙ্গীরের চেম্বারে এখনও যৌন রোগের নানা চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম বলেন, ‘তাকে দেওয়া ব্যবস্থাপত্রে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যান্টিবায়েটিক ওষুধের নাম। তাকে ওষুধ ও ইনজেকশন দিয়ে পরদিন দেখা করতে বলে ঐ চিকিৎসক। একদিন পার হলে ঐ চিকিৎসক বলেন, অপারেশন করতে হবে। এক পর্যায় কৌশল করে ভুক্তভোগী ঐ রোগীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি এল.এম.এ.এফ, ঢাকা (স্থানীয় চিকিৎসা সহকারী এবং পরিবার পরিকল্পনা) কোর্স করেছেন। সে অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়্যিদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ বলেন, ‘ডাক্তার না হয়ে জাহাঙ্গীর আলম চিকিৎসা করতে পারেন না। এটি বেআইনি। তার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা ইউএনও বশির গাজী বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাকে কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তা যাচাই-বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’